
তারাতলা দুর্ঘটনায় বুধবার মধ্যরাতে আটক করা হল গোডাউনের মালিক শম্ভুনাথা বেহরাকে। এলাকায় তাঁর নিজের ফ্ল্যাট থেকে নাকটীয় ভাবে পাকড়াও করা হয়েছে তাঁকে। ঘটনায় আগেই গ্রেফতার হয়েছেন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, নির্মাণ সুপারভাইজার সইদ মহম্মদ গুলজার এবং ঠিকাদার মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ সরকার। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের তদন্ত একটি SIT গঠন করেছে রাজ্য সরকার।
SIT গঠন রাজ্য সরকারের
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারের নির্দেশে ইতিমধ্যেই তারাতলার দুর্ঘটনার তদন্তে SIT গঠন করা হয়েছে। তারাতলা থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ১১০ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা দফতরকে। SIT-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোয়েন্দা দফতরের ডেপুটি কমিশনার। সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গেই SIT-এ রয়েছেন তারাতলা থানার অফিসাররাও। গোয়েন্দা দফতরের ইন্সপেক্টর হীরত দলপতি এই কেসের IO নিযুক্ত হয়েছেন। এই SIT টিমে মোট ৬ জনকে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে কলকাতা পুলিশের তরফে।
নাটকীয় ভাবে গ্রেফতার মালিক
তদন্তকারীরা প্রথমে শম্ভুনাথ বেহরার মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন পরীক্ষা করে দেখেন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে তাঁর অবস্থান জেমস লং সরণির একটি বিলাসবহুল আবাসনে দেখাচ্ছিল। মোবাইল ফোন রিংও হচ্ছিল। তবে তিনি উত্তর দিচ্ছিলেন না। ওই আবাসনে পৌঁছে পুলিশ জানতে পারে সেখানে মোট ৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে শম্ভুনাথ বেহরার নামে। ফ্ল্যাটগুলিতে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পুলিশকে জানান, শম্ভুনাথ বেহরা কোথায় রয়েছেন, সে সম্পর্কে তাঁদের কোনও তথ্য নেই। যদিও পুলিশ নিশ্চিত ছিল তিনি ফ্ল্যাট ছেড়ে কোথাও যাননি। পরে দেখা যায়, পার্কিং লটে শম্ভুনাথ বেহরার সমস্ত গাড়িই রয়েছে। এরপর তিন জন ড্রাইভারকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। CCTV ফুটেজ দেখে শেষ পর্যন্ত বন্ধুর ফ্ল্যাট থেকে আটক করা হয় তাঁকে।
তারাতলায় আর কত জন আটকে?
বুধবার গোটা রাত চলেছে উদ্ধারকাজ। রাত পর্যন্ত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এবং ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। রাতে আরও ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয় ফলে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫। উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ২০-২১ জনকে। এখনও ১০-১২ জনের আটকে থাকার আশঙ্কা। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই চলছে উদ্ধারকাজ। সকালে একজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে সেনা, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল, পুলিশ ও পুরকর্মীরা।
গোডাউনের প্ল্যান ত্রুটিপূর্ণ
ওই গোডাউনের প্ল্যান ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর্থিক সাহায্য এবং অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করবেন তিনি।