
তারাতলায় ভয়ানক বিপর্যয়। একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ল। ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক। একাধিকের প্রাণহানির আশঙ্কা। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে সেনা। পৌঁছে গিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ। বড় ক্রেন এবং গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার অংশ কেটে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। দমকল এবং অ্যাম্বুল্যান্সও মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, ইন্দ্রনীল খাঁ এবং BJP নেতা রাকেশ সিং।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢালাইয়ের কাজ চলাকালীনই বিপত্তি ঘটে। সেই সময় সেখানে কাজ করছিলেন ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে নবান্নের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুমও। কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল? কেন ভেঙে পড়ল ওই নির্মীয়মাণ গুদাম? আদৌ শ্রমিকদের নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা ছিল কি না? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভারী বর্ষণের কারণে নির্মীয়মাণ অংশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
নির্মীয়মান গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রের খবর। ধৃতরা হলেন- সৈয়দ মহম্মদ গুলজার (বিল্ডিং সুপারভাইজার), মহম্মদ আতাউল (লেবার সাপ্লায়ার) এবং সুভাষ চৌধুরী (লেবার সাপ্লায়ার)।
তারাতলাকাণ্ডে আহতদের দেখতে SSKM-এ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, রাতেও চলবে উদ্ধারকার্য। সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হবে।
টানা ৫ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার আরও ১। তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত ২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'চলতি বছর এই বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বেহারা ব্রাদার্স এই জমির মালিক। প্রাথমিক ভাবে KMC ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, প্ল্যানে ত্রুটি ছিল। পরবর্তী রিপোর্ট পেলে জানাব কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
১২টা ৭ মিনিটে তারাতলার দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর্থিক সাহায্যের বিষয়টি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, 'পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং দমকল দ্রুত উদ্ধারকাজ না শুরু করলে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও লম্বা হত। আমরা সিদ্ধান্ত নিই, দেরি না করে সেনা নামাব। ৩.১৫-৩.২০ মিনিট থেকে তারা উদ্ধার শুরু করে। ১৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। SSKM-এ তাঁরা চিকিৎসাধীন। সেখানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারের তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। ওয়ার ফুটিংয়ে উদ্ধারকাজ চলছে। NDRF' এবং সেনা জানিয়েছে, যে ১২-১৫ জন ভিতরে আটকে রয়েছে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। জল এবং অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। আমরা আশাবাদী তাঁদেরও দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
তারাতলায় দুর্ঘটনাস্থলে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, 'সবাই একসঙ্গে কাজ করছে এখানে। সব মন্ত্রীরা রয়েছেন। এনডিআরএফ,সেনা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। এখনও ১২ থেকে ১৮ জন আটকে রয়েছেন স্তূপের নীচে। ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।' ঘটনাস্থল থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এসএসকেএম-এর উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। সেখানে ভর্তি আহতদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন তিনি।
তারাতলায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের দেখতে SSKM হাসপাতালে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তারাতলায় লোহার বিমের স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে একের পর এক শ্রমিককে। নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসএসকেএম ট্রমা কেয়ারে। সেই ভিডিও রইল।
তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কথা বলছেন পুর ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীদের সঙ্গে।
স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১৮ জনকে SSKM হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।
জানা গেছে, নির্মীয়মাণ এই গোডাউনের মালিকের নাম শম্ভু বেহরা। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃত ডেভেলপার আসগর খানের সঙ্গে কাজ করছিল বেহরা ব্রাদার্স। গত ছয়-সাত মাস ধরে গুদামঘরটির নির্মাণকাজ চলছিল।
তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউনের লোহার ছাদ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৮ জনকে এসএসকেএম ট্রমাকেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ট্রমাকেয়ারে ভর্তি ৪ ব্যক্তি হলেন দুর্বাশা মল্লম, মানিক চাঁদ কুমার, শাহিদ কুমার ও আরেক জনের নাম জানা যায়নি।
তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউনের লোহার ছাদ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনায় ৮ জনকে এসএসকেএম ট্রমাকেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন মৃত। বাকি ৫ জনের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ট্রমাকেয়ারে ভর্তি সেই ৪ ব্যক্তি হলেন দুর্বাশা মল্লম, মানিক চাঁদ কুমার, শাহিদ কুমার ও আরেক জনের নাম জানা যায়নি।
শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বললেন, খুবই দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমাদের দুই মন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এই ঘটনার পিছনে যে বা যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নজরদারি করছেন গোটা ঘটনার।
তারাতলায় অত্যাধুনিক ক্রেন দিয়ে ভেঙে পড়া বিমগুলি তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। খুব সাবধানে লোহার বিমগুলি তোলার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে ফের না ভেঙে পড়ে। উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে সেনাও।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও পৌঁছনোর কথা রয়েছে শীঘ্রই।
তারাতলায় ধ্বংসস্তুপের কাছে গিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের নাম ধরে ডাকার চেষ্টা করছেন পরিবারের লোকেরা। যদি কারও সাড়া পাওয়া যায় সেই আশাতেই চলছে খোঁজ। অনেকেই ভিতর থেকে সাড়া দিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।
SSKM-এর ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ৮ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে। পরপর অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছচ্ছে হাসপাতালে। দ্রুত স্ট্রেচারে আহতদের নামিয়ে ট্রমা কেয়ার সেন্টারে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে আহত শ্রমিকদের।
তারাতলায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বললেন, 'আপাতত আমাদের প্রায়োরিটি মানুষকে উদ্ধার করা। সব ধরনের উদ্ধারকারী দল এখানে কাজ করছেন। এই সব বেআইনি নির্মাণ, তৃণমূল কংগ্রেস আমলে তৈরি হচ্ছিল।'
তারাতলায় ধ্বংসস্তুপ থেকে আটকে পড়ে জখম শ্রমিকদের প্রাথমিক চিকিৎসার যাতে কোনও দেরি না হয়, সেই কারণে ঘটনাস্থলেই হাজির চিকিৎসকদের দল। এরফলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।