
তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন আয়ান ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার কাঠামো নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধি কমল সামন্ত, শ্রমিক সরবরাহকারী ও ট্রাইমেক্স ঠিকাদার দিবাকর ভাণ্ডারি এবং পুরসভায় নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী আব্দুল হামিদ।
বুধবার রাতেই গুদামের সুপারভাইজার-সহ প্রায় ন’জনকে আটক করে তারাতলা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ জেরার পর শম্ভুনাথ বেহরা-সহ পাঁচ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালেও ঘটনাস্থলে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশাল হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে ভেঙে পড়া কাঠামোকে স্থিতিশীল রেখে ধাপে ধাপে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৪ জন আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে দু’জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে চার জন নদিয়ার বাসিন্দা এবং একজন উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার বাসিন্দা।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। এই দলে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের এক সহকারী পুলিশ কমিশনার, হোমিসাইড শাখার ওসি-সহ গোয়েন্দা বিভাগের চার জন আধিকারিক এবং তারাতলা থানার দুই সাব-ইন্সপেক্টর। পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ার তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ তারাতলায় নির্মীয়মাণ ওই গুদামের ছাদ আচমকা ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বিশাল লোহার কাঠামো ও কংক্রিটের স্তূপের নিচে চাপা পড়েন অন্তত ৪০ জন শ্রমিক। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে ভারতীয় সেনা ও এনডিআরএফ-ও অভিযানে যোগ দেয়।
উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে একাধিক ভারী ক্রেন, হাইড্রোলিক লিফট এবং গ্যাস কাটার। বিশাল লোহার বিম সরিয়ে এবং বিভিন্ন জায়গায় লোহা কেটে পথ তৈরি করে আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকর্মীদের মতে, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে অভিযান চালানো হচ্ছে।
কলকাতা পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জমিতে গুদামটি নির্মাণ করা হচ্ছিল, সেটি বন্দর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন। ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে জমিটি ৩০ বছরের জন্য ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামে একটি সংস্থার কাছে লিজ় দেওয়া হয়েছিল। চা-পাতা সংরক্ষণ ও প্যাকেজিংয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ওই সংস্থার অন্যতম কর্ণধার শম্ভুনাথ বেহরা। তাঁর তত্ত্বাবধানেই গুদাম নির্মাণের কাজ চলছিল। এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, নির্মাণে কোনও গাফিলতি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বা নিয়মভঙ্গ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা।