Advertisement

ঝাড়গ্রামে হঠাত্‍ 'বহিরাগত' হাতিদের দলমায় ফেরাচ্ছে বনদফতর, কেন?

ঝাড়গ্রামকে ঘিরে বহু বছরের ‘হাতির আতঙ্ক’ এবার কিছুটা কমেছে। প্রায় দেড় দশক ধরে বাংলার জঙ্গলে থাকা ৩৮টি হাতির একটি দল অবশেষে নিজ বাসভূমি ডালমা অরণ্যে ফিরে গিয়েছে। কিন্তু এই ঘটনাই এখন রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 20 Apr 2026,
  • अपडेटेड 10:17 AM IST
  • ঝাড়গ্রামকে ঘিরে বহু বছরের ‘হাতির আতঙ্ক’ এবার কিছুটা প্রশমিত।
  • প্রায় দেড় দশক ধরে বাংলার জঙ্গলে অবস্থান করা ৩৮টি হাতির একটি দল অবশেষে নিজ বাসভূমি দলমা অরণ্যে ফিরে গিয়েছে।

ঝাড়গ্রামকে ঘিরে বহু বছরের ‘হাতির আতঙ্ক’ এবার কিছুটা প্রশমিত। প্রায় দেড় দশক ধরে বাংলার জঙ্গলে অবস্থান করা ৩৮টি হাতির একটি দল অবশেষে নিজ বাসভূমি দলমা অরণ্যে ফিরে গিয়েছে। কিন্তু এই ঘটনাই এখন রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ড থেকে আসা এই হাতির দল দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়গ্রাম ও জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল। বনদফতরের জোরদার উদ্যোগে ৪ মার্চ শুরু হওয়া অভিযানে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ১৩ এপ্রিল তারা দলমা রেঞ্জে ফিরে যায়। কাকড়াঝোর-দলাপানি করিডর সক্রিয় হওয়াকেই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে হাতির উপদ্রব ঝাড়গ্রামবাসীর কাছে এক বড় সমস্যা ছিল। ফসলের ক্ষতি, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। ২০২২-২৩ সালে হাতির হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। যদিও পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবুও মানুষের মনে আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি।

এই প্রেক্ষাপটেই হাতির দলটির ফিরে যাওয়া রাজনৈতিক তরজার নতুন ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করছে, তাদের সরকারের বন ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোগের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।

বনদফতরের আধিকারিকদের মতে, এই ঘটনাটি একটি বড় সাফল্য হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। কারণ, ঝাড়গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় এখনও প্রায় ২০০টি হাতি রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশের উৎস ডালমা বা ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ অঞ্চল।

স্থানীয় বাসিন্দারাও মনে করছেন, শুধু হাতির দল ফিরে যাওয়া যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। কারণ মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে স্থায়ী সমাধান না হলে সমস্যা আবারও ফিরে আসতে পারে।

নির্বাচনের মুখে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। ২৩ এপ্রিল ঝাড়গ্রামে ভোটের আগে হাতির এই ‘ফেরা’ যে ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

Advertisement

 

Read more!
Advertisement
Advertisement