
আবার বড়সড় অভিযোগ করলেন আরজি কর নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি দাবি করেছেন, মেয়ের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে চুপ করতে বলা হয়েছিল। সেই মতো প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হয়েছিল। এমনকী দেওয়া হয়েছিল টাকার অফার। তাঁর স্বামীর সামনে বন্দুক ধরে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
পানিহাটিতে নিজের কার্যালয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুরনো দিনের কথা তুলে ধরেন রত্না। তিনি জানান, তাঁর মেয়ের মৃতদেহ গ্রিন করিডোর দিয়ে বাড়িতে আনা হয়। এরপর তাঁর স্বামীকে বাইরের করিডরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই ভয়ঙ্কর অভিযোগ করেন রত্না। তিনি দাবি করেন, এই সময় স্থানীয় নেতা নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও তৎকালীন ডিসি নর্থ-এর উপস্থিতিতে টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
বন্দুকের সামনে হুমকি
রত্না দেবনাথ বলেন, 'চুপ থাকার জন্য আমার স্বামীর সামনে বন্দুক ধরা হয়েছিল। তিনি এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে প্রথমে এই ব্যাপারে আমাকে কিছুই বলেননি।'
দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের করা হয়নি
আরজি করের চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি ওঠে। সেই মতো মৃতদেহ সংরক্ষণ ও দ্বিতীয়বার পোস্টমর্টেম করার অনুরোধও করা হয়। যদিও প্রশাসন এই সব দাবি পাত্তাই দেয়নি বলে দাবি করেন রত্না। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর পুরো পরিবার বেশ কয়েকদিন ধরে আতঙ্কে ছিল।
রত্নার আরও দাবি, তাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতেও বারণ করা হয়েছিল। এমনকী একটি ভিডিও রেকর্ড করতেও বাধ্য করা হয়েছিল।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এর কার্যকলাপ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সিবিআই ভুক্তভোগীর মা হিসেবে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেনি।
এরপরই তিনি দাবি করেন, ন্যায়বিচারের দাবি করতে রাজি নন। বরং ন্যায় ছিনিয়ে নিতে হবে। তিনি এটাও জানান যে বিচার ব্যবস্থা এবং নতুন রাজ্য সরকার তাঁকে ন্যায়বিচার দেবে।
মাথায় রাখতে হবে, আরজি করের ঘটনা সামনে আসার পরই আলোড়িত হয় গোটা বাংলা। রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের আওয়াজ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাকফুটে চলে যেতে থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তভার যায় সিবিআই-এর কাছে। তবে তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি বলেই অভিযোগ করেছেন রত্না। সেই সময় তদন্তে অনেক গাফিলতি ছিল বলেই দাবি করেছেন তিনি। যদিও এখন নতুন সরকার এসেছে। তাই তিনি আশাবাদী যে তাঁর মেয়ে 'জাস্টিস' পাবে।