Advertisement

তারাতলায় 'খুন' ৩ শিশুশ্রমিকও, শ্রমমন্ত্রী অর্জুন কী বলছেন?

লাশের মুখ দেখেই উদ্ধারকারীরা বুঝতে পারছিলেন, পেটের দায়েই বই-খাতা ছেড়ে নির্মাণস্থলে নেমেছিল তারা। যে বয়সে স্কুলের বেঞ্চে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই মাথায় ইট-লোহার বোঝা তুলে জীবিকার লড়াই করছিল তিন কিশোর। কিন্তু সেই লড়াইও শেষ হল তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ধ্বংসস্তূপের নিচে। 

তারাতলার বিপর্যয়ে মৃত্যু ৩ কিশোরের।-গ্রাফিক্স তারাতলার বিপর্যয়ে মৃত্যু ৩ কিশোরের।-গ্রাফিক্স
সুকমল শীল
  • কলকাতা,
  • 26 Jun 2026,
  • अपडेटेड 1:25 PM IST
  • তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত শ্রমিকদের মধ্যে অন্তত তিনজন নাবালক ছিলেন বলে জানিয়েছে লালবাজার।
  • কীভাবে নির্মাণকাজে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তদন্ত শুরু করেছে।

লাশের মুখ দেখেই উদ্ধারকারীরা বুঝতে পারছিলেন, পেটের দায়েই বই-খাতা ছেড়ে নির্মাণস্থলে নেমেছিল তারা। যে বয়সে স্কুলের বেঞ্চে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই মাথায় ইট-লোহার বোঝা তুলে জীবিকার লড়াই করছিল তিন কিশোর। কিন্তু সেই লড়াই শেষ হল তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ধ্বংসস্তূপের নিচে। 

তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত শ্রমিকদের মধ্যে অন্তত তিনজন নাবালক ছিলেন বলে জানিয়েছে লালবাজার। কীভাবে নির্মাণকাজে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তদন্ত শুরু করেছে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে এক শ্রমিকের দেহ উদ্ধারের পর তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে গিয়ে তদন্তকারীদের হাতে আসে কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা রাহুল চৌধুরীর আধার কার্ড। তখনই জানা যায়, তাঁর বয়স এখনও ১৮ বছর হয়নি। এরপর তদন্তে আরও জানা যায়, মৃতদের মধ্যে সাহিল সর্দার ও ঘি কুমার নামে আরও দুই শ্রমিকের বয়সও মাত্র ১৭ বছর। অর্থাৎ, গুদাম নির্মাণে বেআইনিভাবে তিনজন নাবালককে কাজে লাগানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইন অনুযায়ী, নাবালকদের এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজে নিয়োগ করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই কার নির্দেশে তাঁদের কাজে নেওয়া হয়েছিল এবং এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন, তা এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিষয়টিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, '১৮ বছরের কম বয়সিদের দিয়ে কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি একটি অপরাধ। এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী মামলা হবে।'

শ্রমমন্ত্রীর কথায়, 'সমাজের চরম দারিদ্র্যই বহু পরিবারকে বাধ্য করছে অল্পবয়সিদের কাজে পাঠাতে। তাই শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, দরিদ্র পরিবারগুলিকে সরকারি প্রকল্পের আওতায় এনে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।' তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, 'এটি দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক ব্যাধি। একদিনে এর সমাধান সম্ভব নয়। তবে শিশুশ্রম রুখতে বৃহত্তর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা চলছে এবং খুব শিগগিরই বড় পদক্ষেপ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও এ বিষয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে।'

শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং আরও জানান, ধসে নিহত শ্রমিকদের মধ্যে মাত্র একজন শ্রমদফতরে নথিভুক্ত ছিলেন। তাঁর মতে, সব শ্রমিক নথিভুক্ত থাকলে সরকারি ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুবিধা পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হতো। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে, কিন্তু শিশুশ্রম নির্মূল করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


 

Read more!
Advertisement
Advertisement