
কালীঘাটে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেই তাঁর উপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ। এক মহিলা মমতার উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। মমতা তৃণমূল পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দুর্গাপুজোর একটি মণ্ডপ উদ্বোধন করতে যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীর শাড়ি টেনে ধরা হয়। ওই মহিলার কাছে ছুরি ছিল। তিনি নাকি হামলার চেষ্টাও করেন।
এরপর তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মহিলাকে আটকে কালীঘাট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দোলা সেনরা।
মমতা তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ কালীঘাটে মমতার বাসভবনের বাইরে ওই মহিলা হাজির হন। সেই সময় দুর্গাপুজোর একটি মণ্ডপ উদ্বোধন করতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ, ওই সময়ই মহিলাটি মমতার দিকে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন। তাঁর শাড়ি টেনে ধরা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। মহিলার কাছে ছুরি থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে।
স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, পরিস্থিতি বুঝে দলের কর্মী ও নেতারা মহিলাকে আটক করেন। পরে তাঁকে কালীঘাট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জেড-প্লাস নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বাসভবনের প্রবেশপথের কাছে কীভাবে ওই মহিলা পৌঁছলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মমতা তৃণমূল।
কী দাবি তৃণমূলের অভিযোগপত্রে?
কালীঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে উদ্দেশ করে লেখা একটি অভিযোগপত্রের বয়ান সামনে এসেছে। দোলা সেন অভিযোগপত্রে লিখেছেন, সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ এক মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আসেন। অভিযোগপত্রে তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ার বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি নাকি মাদকাসক্তও ছিলেন। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই মহিলা ছুরি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন নেই এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের উপর নৃশংসভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের সতর্ক কর্মীরা সময়মতো বাধা দেওয়ায় বড় ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
কীর্তি আজাদ এই ঘটনাকে বিজেপির দুষ্কৃতীদের মদতপুষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি, বাংলার বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেছেন, খুব শীঘ্রই প্রমাণিত হবে যে নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছিল।
ঘটনার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। তবে মহিলার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তাঁর কাছে সত্যিই ছুরি ছিল কি না, এবং ঘটনার পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা নিয়ে পুলিশের কোনও বক্তব্য সামনে আসেনি।