
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তুলকালাম কাণ্ড। BJP-TMC সংঘর্ষ উত্তপ্ত কালীঘাট। তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। রাতভর নিজের বাড়ির সামনেই অবস্থানে বসেন তিনি। পুলিশের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এদিকে, তৃণমূল ও BJP সমর্থকদের হাতাহাতিতে কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন। পুলিশকে পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়।
ঘটনাটি ঠিক কী?
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার মধ্যরাত দেড়টা নাগাদ। ৭ নভেম্বর, শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে তাঁর দলীয় কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবছরের মতো এ বছরও মধ্যরাতে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে কালীঘাটের বাড়ির সামনে জড়ো হন। সেই সময় এলাকায় দিয়ে যাওয়া কিছু BJP সমর্থকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে 'চোর চোর' স্লোগান তুলতে থাকেন। এতেই দু'পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। যা ক্রমশ হাতাহাতিতে গড়ায়। ইটবৃষ্টি হতে থাকে। লাঠি-বাঁশ নিয়ে চড়াও হন একে অপরের উপর। দু'পক্ষের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকায়। ঘটনায় ৭ জন জখম হয়েছেন। পুলিশকে রীতিমতো এই সংঘর্ষ থামাতে বেগ পেতে হয়। দু'পক্ষের মধ্যে ব্যারিকেড করে আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। তা সত্ত্বেও চলতে থাকে ব্যারিকেডের দুই পার থেকে উত্যক্ত বাক্যবিনিময়।
রাতভর অবস্থানে অভিষেক
এই ঘটনায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। বড় বড় ইট, পাথর ছোড়া হয়েছে। সত্যি কথা বলার জন্য যদি আমার বিরুদ্ধে কনটেম্পট অফ কোর্ট দেয় আমি হাজার বার জেলে যেতে রাজি।' এরপর তিনি নিজের বাড়ির সামনেই অবস্থানে বসে পড়েন। পুলিশ তাঁকে ভিতরে চলে যেতে বললে পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি ও বিতর্ক শুরু হয়। তিনি বলেন, 'আজকে যে তুলকালাম কাণ্ড হয়েছে, আমায় প্রাণে মেরে দিত। নেহাত আমার কর্মী সমর্থকরা লড়াই করে আমায় বাঁচিয়ে দিলেন। এত বড় ঘটনা ঘটছে কী করে? এরা ইন্ধন পাচ্ছে কারণ বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুলিশকে ঠাঁটিয়ে চড় মেরেছে BJP কর্মী। এই তো পুলিশের অবস্থা। আমার নিরাপত্তা নিয়ে আমি ভাবি না। কিন্তু একজন সাংসদের উপর ৫ বার হামলা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?' রাতভর অবস্থানেই বসে ছিলেন অভিষেক। ভোর ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ তিনি ভিতরে প্রবেশ করেন। ঘটনার খবর পেয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছন দলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন।