
দমদম বিধানসভার দুই পৌরসভার তৃণমূল কাউন্সিলররা ইচ্ছে করে কাজ করছেন না। তাঁরা নতুন সরকারকে বিপদে ফেলতেই এই স্ট্যাটেজি নিয়েছেন। যার ফলে আটকে রয়েছে নাগরিক পরিষেবা। বর্ষায় ভোগান্তির আশঙ্কা বাড়ছে।bangla.aajtak.in-এর সঙ্গে কথা বলার সময় এমনটাই অভিযোগ করলেন দমদমের বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী। পাশাপাশি এই সমস্যা সমাধানে তিনি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেটাও খোলসা করেছেন।
আসলে বুধবার দমদম পৌরসভা এবং দক্ষিণ দমদম পৌরসভার চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বিজেপির আইনজীবী বিধায়ক। সেই বৈঠকে তিনি নাগরিক পরিষেবা ঠিক রাখতে একাধিক নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বর্ষায় যাতে দমদমের বাসিন্দাদের জল জমার সমস্যাতে না ভুগতে হয়, সেই জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি আমাদের বলেন, 'সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কারভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে প্রত্যেকটা পৌরসভা, কর্পোরেশন, পঞ্চায়েত যেন নাগরিক পরিষেবা দিতে থাকে। সেই দিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পৌরসভা বা কর্পোরেশন, পঞ্চায়েতের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যদি কাজ না করেন বা কাজে বাধা দেন, তাহলে সরকারি আধিকারিকেদের দিয়ে কাজ করতে হবে। তাঁদেরকে দিয়ে মানুষের পরিষেবা দেওয়ার কাজটা নিরন্তর চালিয়ে যেতে হবে। সেই নির্দেশের কথা মাথায় রেখেই দমদম বিধানসভার মধ্যে দু'টি পৌরসভার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলাম।'
তড়িঘড়ি কাজ করতে গিয়েই বিপত্তি
অরিজিতের দাবি, ভোটের আগে দমদমের দুই পৌরসভায় তড়িঘড়ি কাজ শুরু করা হয়। কোথাও কোথাও রাস্তা খুঁড়ে, কোথাও ড্রেন ভেঙে, আবার কোথাও রাস্তার উপর ব্রিক ব্লক অর্ধেক অংশ বসিয়ে অর্ধেক বাকি রেখে দেওয়া হয়েছে। আর সেটাই সমস্যার কারণ।
তাঁর অভিযোগ, 'পাঁচ বছর ঘুমিয়ে থেকে হঠাৎ কুম্ভকর্ণের ঘুম থেকে উঠে চারদিকে রাস্তা খুঁড়ে ড্রেন ভেঙে একাকার কাণ্ড করে ফেলেছে। সমস্যাটা হল যে নির্বাচনে লজ্জাজনক পরাজয়ের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বন্ধ করে দিয়েছেন। এমনকী পৌরসভায় যাওয়া বা ওয়ার্ড অফিসে আসাও বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁরা প্রাথমিকভাবে কিছুদিন কয়েকদিন বাহানা দেখাচ্ছিলেন যে ভয়ে আসতে পারছেন না।'
কিন্তু তারপরই বিজেপি কর্মীরা কাজে নামে বলে দাবি দমদমের বিধায়কের। তিনি জানালেন, এই অভিযোগ পাওয়ার পর বিজেপির কর্মীরা এবং নেতারা তৃণমূলের কাউন্সিলরদের ওয়ার্ড অফিস খুলে দেয়। সুরক্ষা নিশ্চিত করে। জনপ্রতিনিধিদের পরিষেবা দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু তখনও কাউন্সিলররা কাজ করেনি বলে জানালেন তিনি।
এই বিজেপি নেতার অভিযোগ, 'একদম ১০০ শতাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ করেনি। যাতে নবগঠিত সরকারকে কোনও না কোনওভাবে কালিমালিপ্ত করা যায়, তাই তৃণমূলের কাউন্সিলররা কাজ করছেন না। এটা আমরা হতে দিতে পারি না।'
দমদমের বর্ষা
অরিজিৎ বলেন, 'দমদম জুড়ে বর্ষায় জমা জলে কী মারাত্মক পরিণতি হয়, মানুষের কী দুর্বিষহ অবস্থা হয়, এগুলো আপনারা জানেন। বছরের পর বছর ধরে দমদমের মানুষ জমা জলের ভোগান্তির শিকার হয়। তাই আজকে বসার একটা মূল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে একটি ছিল যে বর্ষা শুরু হওয়ার আগে যেভাবেই হোক যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অর্ধসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে হবে। ড্রেনেজ সিস্টেমটাকে ঠিক করতে হবে। নইলে বর্ষায় দমদমের মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।'
পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বাগজোলা খালের খারাপ অবস্থা করে রেখেছে তৃণমূল। টেন্ডারে দুর্নীতি করেছে। তিনি এখন এই সমস্যা সমাধানের সম্পূর্ণ চেষ্টা করছেন। তাতে দমদমে জল জমার সমস্যা কমবে। সেই সঙ্গে অরিজিৎ জানান, আবর্জনার ভ্যাট যাতে রোজ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়, সেই বিষয়েও দুই পুরপ্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দমদমের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন দমদম মণ্ডল ৩-এর বিজেপি সভাপতি অনির্বাণ সমাজপতিও। তিনিও বিধায়কের সুরেই অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলররা ইচ্ছে করেই কাজ করছে না। তাতে নাগরিক পরিষেবা বন্ধ হয়ে রয়েছে। যদিও এই সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'আমি সরকারের কেউ নই। তাই সরকারের কথা বলতে পারব না। কিন্তু দল যদি কোনও দায়িত্ব দেয়, কোনও কাজ করতে বলে, নিশ্চয়ই করব।' এছাড়াও তাঁর মন্তব্য, 'দমদমের বিধায়ক এই ধরনের সমস্যার খুব সহজেই সমাধান করে দেবেন। চিন্তার কিছু নেই।'