
প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টার লম্বা জেরা। রাত সাড়ে এগারোটার সময় ভবানী ভবন ছেড়ে বেরোন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে তাঁকে পরপর তলব করেছিল সিআইডি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাঁকে হাজিরা দিতে হত। কারণ সেই শর্তেই আদালত তাঁকে রক্ষাকবজ দিয়েছে। তবে এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ি ঘুরে অভিষেক নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছে যান। সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। রাতে ভবানী ভবন থেকে বেরোন অভিষেক। সেখান থেকে সোজা কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান।
অবশেষে ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে ৬ টার মধ্যে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়কে সিআইডি দফতরে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। সেই নির্দেশ মেনে ছটা বাজার এক মিনিট আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছন অভিষেক।
বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ফিরে প্রথমে কালীঘাটের বাড়িতে যান তিনি ৷ সেখানে সামান্য সময় কাটানোর পর তিনি সোজা চলে যান ভবানী ভবনে ৷ বিধানসভায় সই-জাল কাণ্ডে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন সিআইডির আধিকারিকরা ৷ বহুল আলোচিত এই মামলায় অভিষেকের ভূমিকা এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ নিয়ে তদন্তকারীরা তাঁকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে সূত্রের খবর।
এদিকে সই জাল কাণ্ডে ২১ দিনের জন্য রক্ষাকবচ পেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এ দিন কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বিকাল ছ’টার মধ্যে অভিষেককে হাজিরা দিতে হবে সিআইডি-তে। এর আগে, তিন বার নোটিস পাঠান হলেও তদন্তকারীদের সামনে হাজির হননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর থেকে বেরনোর সময় অভিষেককে দেখে ‘চোর’ স্লোগান ওঠে। তবে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি তৃণমূল সাংসদ ৷ কোনওরকমে নিরাপত্তারক্ষীদের সহযোগিতায় গাড়িতে ওঠেন তিনি। মনে করা হচ্ছিল, তিনি বিমানবন্দর থেকে সোজাসুজি ভবানীভবন যাবেন। কিন্তু দেখা যায়, কালীঘাটের বাড়িতে যান তিনি। আধঘণ্টা পর, ঘড়ির কাঁটায় ৫ টা বেজে ৪০ মিনিট নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভবানীভবনের পথে রওনা দেন অভিষেক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিআইডি দফতরে পৌঁছন তিনি। এরপর রেজিস্টারে সই করে সিআইডি অফিসের ভেতরে ঢুকে যান অভিষেক ৷
উল্লেখ্য, বিধানসভায় সই-জাল কাণ্ডে বেশ কিছুদিন ধরেই সিআইডি'র নজরে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । এই মামলার সূত্র ধরে এর আগে একাধিকবার তাঁর শান্তিনিকেতন এবং কলকাতার বাসভবনে গিয়েছে সিআইডি । তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিক নোটিসও পাঠানো হয় । তবে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং দিল্লিতে সাংগঠনিক ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তিনি হাজিরা দিতে পারেননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি ছিল । এভাবে পরপর তিনবার তিনি হাজিরা এড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ।