
এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ NCPI দলে যোগ দিলেও মহুয়া মমতা-ঘনিষ্ঠ সাংসদ হিসেবেই পরিচিত। যেখানে কালীঘাট শিবিরের নেতারা একের পর এক আক্রমণ শানাচ্ছেন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে, সেখানে মহুয়ার মন্তব্য নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে। BBC-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কৃষ্ণনগরের সাংসদ জানান, তাঁদের দল আলাদা হতে পারে কিন্তু, তাঁর সঙ্গে শুভেন্দুর ইমোশনাল সম্পর্ক।
শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তিনি বলেন, 'আমার সঙ্গে শুভেন্দুর খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। একসঙ্গে দলের কাজ করেছি। উনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন। আমি তা ভুলতে পারব না। আমি যখন প্রথম করিমপুর থেকে লড়াই করি, তখন কেউ আসেননি। কেউ আমার হয়ে প্রচার করেননি। তবে শুভেন্দু এসেছিলেন। আমি আর শুভেন্দু মিলে প্রচার করেছিলাম। সেই প্রমাণ আজও আছে। করিমপুরে যখন টিকিট পাইনি, উনি আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, বোন আপনার পাশে আছি। এটা ঠিক যে, এখন উনি অন্য দল করেন। আমাদের মতাদর্শ ভিন্ন। অন্য দল করি, তাই আর যোগাযোগ নেই। কিন্তু ব্যক্তিগত বা ইমোশনাল সম্পর্ক তো মোছা যায় না।'
সায়নী ঘোষ বা দলবদল করা বাকি সাংসদদের নিয়ে মহুয়া জানান, তিনি যাদবপুরের সাংসদ-অভিনেত্রীর দলবদলে অবাকই হয়েছেন। কারণ সায়নীকে তিনি সবার থেকে আলাদা মনে করতেন। তবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পরিবর্তনে অবাক হননি। বলেন, 'সায়নীর এই অবস্থানে আমি অবাকই হয়েছি। আমি মনে করতাম ও নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ। বিরোধিতার রাজনীতির ও করতে পারবে। তবে বাকিদের আমি সেভাবে জানতামও না। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায় আগেও দলবদল করেছেন। দল ছেড়ে ফিরেওছিলেন। ফলে ওঁকে নিয়ে অবাক হইনি। কিন্তু সায়নীকে অত্যন্ত অল্প বয়সে দল সাংসদ করা হয়েছে। পার্টি ওকে পদ দিয়েছে। অথচ সে এমনটা করল, তাই আশ্চর্য হয়েছি।'
প্রসঙ্গত, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ NCP-তে যোগ দিয়ে দাবি করেছেন তাঁরা NDA=তে যোগ দেবেন। তৃণমূলের দাবি, এই দল ভাঙানোর নেপথ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে ৬০ থেকে ৬৫ জন বিধায়ক বিদ্রোহী হয়েছেন, তাঁদেরও শুভেন্দুর বি টিম বলে আক্রমণ করছে কালীঘাট তৃণমূল শিবির। এই প্রেক্ষিতে মহুয়ার মুখে শুভেন্দুর প্রশংসা যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।