Advertisement

ঋতব্রতরা তো শহিদ দিবসের মঞ্চ বাঁধা শুরু করে দিলেন, মমতাপন্থী TMC-র কী পরিস্থিতি?

২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন ও সমাবেশের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সোমবার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে যায় ঋতব্রত শিবির। এই দলে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও জাভেদ খানরা। এবার নাচ-গান হবে না, শহিদ তর্পণ হবে, জানিয়ে দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।

'কলকাতা চলো' লিখেও এখনও বিশ বাঁও জলে মমতাপন্থীরা 'কলকাতা চলো' লিখেও এখনও বিশ বাঁও জলে মমতাপন্থীরা
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 14 Jul 2026,
  • अपडेटेड 12:24 PM IST


একুশে জুলাইয়ের সাতদিন আগেও শহিদ তর্পণ কর্মসূচি ঘিরে তৃণমূলে মমতাপন্থী বনাম ঋতব্রত শিবিরের দড়ি টানাটানি অব্যাহত।  শহিদ দিবসের মঞ্চও বাঁধা হবে দু'জায়গায়। ইতিমধ্যে ঋতব্রত শিবির শহিদ দিবস করার জন্য গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনুমতি পেয়েছে । অন্যদিকে মমতাপন্থী  শিবির কোথায় ২১ জুলাই করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।  তাদের পোস্টার এবার আর 'ধর্মতলা চলো' নয়, বরং লেখা, 'কলকাতা চলো'। 

২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন ও সমাবেশের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সোমবার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে যায়  ঋতব্রত শিবির। এই দলে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও জাভেদ খানরা। এবার নাচ-গান হবে না, শহিদ তর্পণ হবে, জানিয়ে দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। 

তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরকে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির সামনে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে লালবাজার।  মেয়ো রোডে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ নির্মাণের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। সমাবেশে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে  আমন্ত্রণ জানান নিয়ে ঋতব্রত বলেছেন, ‘আমাদের মঞ্চ সকলের জন্য উন্মুক্ত। চাইলে সবাই এই সমাবেশে আসতে পারেন। আলাদা করে কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না।’

প্রসঙ্গত, ২১ জুলাই দিনটি তৃণমূল কংগ্রেস বরাবর মেগা ইভেন্ট হিসেবে পালন করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে বড় দিনও বটে। ১৯৯৩ সালের তখনকার যুব কংগ্রেস কর্মীদের মহাকরণ অভিযানে তৎকালীন সরকারপক্ষের গুলিচালনায় ১৩ জনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণে রেখে এই কর্মসূচি করে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ঘটনাস্থল ধর্মতলায় বলে সেখানেই শহিদ দিবস পালন করা হয়। ২০২৫ পর্যন্ত প্রতিবছর এই দিনটিতে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে তৃণমূল। কিন্তু এবারের ছবিটা আলাদা। তৃণমূল ভেঙে টুকরো। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে আর সে অর্থে কিছুই নেই। পরিষদীয় দলের রাশ চলে গিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ের কাছে। তিনি দাবি করছেন, তাঁরাই 'আসল তৃণমূল'। ফলে একুশে জুলাই পালনের অধিকারও নাকি তাঁদের। 

 এই সাড়া জাগানো কর্মসূচিতে এতদিনের মধ্যে ছন্দপতন ঘটছে এবারই প্রথম। মমতা যে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে মমতা সভা করতেন, সেখানে এবার তা করা যাবে না বলে পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে। ২১ জুলাইয়ের আগে কেন ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে ৬০ দিন ধরে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, এই প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মমতাপন্থী  তৃণমূল। কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষে মামলা করেছেন সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েন। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংসদ তথা আইনজাবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা আগামী বুধবার।  অর্থাৎ, মমতাপন্থী  তৃণমূল এখনও শহিদ সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি পায়নি। 

Advertisement

ইতিমধ্যেই মমতাপন্থী  তৃণমূলের মুখপাত্র-সহ একাধিক নেতা-নেত্রীর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টার ঘুরছে। ২১ জুলাইয়ের পোস্টার। তাতে প্রধান বক্তা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই লেখা। কিন্তু অন্যান্যবারের মতো লেখা নেই 'ধর্মতলা'র কথা। লেখা 'শহিদ স্মরণে কলকাতা চলো।' স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা, কোথায় হবে এই সমাবেশ। প্রাথমিকভাবে মমতাপন্থী তৃণমূল নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছিল বলেই জানা যায়। তাঁরা ধর্মতলার পুরনো জায়গাতেই শহিদ দিবস পালন করবেন বলেই মনস্থির করছিলেন সূত্রের খবর তেমনটাই। তবে জানা যাচ্ছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কালীঘাটে তৈরি অন্য বিকল্প ভাবনা। একাধিক জায়গার ভাবনা ভাবা হচ্ছে বলেও খবর সূত্রের। যদিও এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি। কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টার সামনে এসেছে।  এমন পরিস্থিতিতে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ করাই বড় চ্যালেঞ্জ মমতা-অভিষেকের কাছে। যদিও, ইতিমধ্যে মমতা জানিয়েছেন, পাঁচ জন নিয়ে হলেও ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউজ়ের সামনে তিনি শহিদ সমাবেশ করবেন।

Read more!
Advertisement
Advertisement