
কালো কাচে ঢাকা গাড়িতে বিধানসভায় ঢুকছেন একের পর এক বিধায়ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, ৫৯ জন বিধায়কের সই সহ চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দিচ্ছেন বিদ্রোহী বিধায়করা। এখনও পর্যন্ত খবর, নতুন দল তৈরির প্ল্যান নেই। আজ অর্থাত্ বুধবার বিদ্রোহী নেতারা স্পিকারের কাছে দুই তৃতীয়াংশ বিধায়কের সই সহ চিঠি জমা দেবেন। বিধানসভায় বিদ্রোহী বিধায়কদের মিটিং চলছে। মোদ্দা বিষয়, এবার আসল তৃণমূল তৈরির দাবি করবেন বিদ্রোহী বিধায়করা।
বিদ্রোহী বিধায়করা স্পিকারের কাছে চিঠি দিচ্ছেন
India Today-কে এক সূত্র জানালেন, বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী বিধায়করা স্পিকারের কাছে চিঠি দিচ্ছেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতর নাম পেশ করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার একদিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় হাজির হয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অন্তত ৫০ জনের বেশি তৃণমূল বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁদের সমর্থন রয়েছে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন বিরোধী গোষ্ঠীর মুখ হিসেবে তুলে ধরা
সূত্রের খবর, দলের একাংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন বিরোধী গোষ্ঠীর মুখ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। যদি সত্যিই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়ক তাঁর পাশে দাঁড়ান, তাহলে তা তৃণমূলের অন্দরে বড় রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি করতে পারে। এমনকী ভবিষ্যতে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে আইনি এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।
দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে সোমবারই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঋতব্রতর নাম প্রকাশ্যে আসে এবং তিনি দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বিরোধী দলনেতা, উপনেতা এবং চিফ হুইপ নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তাবে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়েই তিনি এবং সন্দীপন সাহা সরব হন। দল থেকে বহিষ্কারের পরেও ঋতব্রত এবং সন্দীপন থেমে থাকেননি। সূত্রের দাবি, সোমবার রাতেই কলকাতার বিধায়ক হস্টেলে একাধিক তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তৃণমূলের অন্দরে কি নতুন কোনও গোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে?
দক্ষিণ কলকাতার একটি হোটেলে এই বৈঠক হয়েছিল
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিশেষ করে দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং IPAC-এর ভূমিকা নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের অন্দরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
অন্যদিকে, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, ঋতব্রত ও সন্দীপন গোপনে কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করে দল ভাঙার চেষ্টা করছেন। দক্ষিণ কলকাতার একটি হোটেলে এই বৈঠক হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও ঋতব্রত সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনও দল ভাঙার ষড়যন্ত্রে যুক্ত নন এবং দলের অন্দরে গণতান্ত্রিক আলোচনার পক্ষেই কথা বলছেন। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনই কোনও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। বরং পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা দেখার জন্য ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি নেওয়া হয়েছে।