
ভেঙে দু'টুকরো হওয়ার পথে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে হারের পর থেকেই বিদ্রোহী হয়েছেন তৃণমূলের একগুচ্ছ নেতারা। জিতে বিধায়ক হয়েও তৃণমূলের কর্মসূচিতে দেখা মিলছে না তাঁদের। এরই মধ্যে সই জাল কাণ্ডে দল থেকে নিলম্বিত হয়েছেন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এর আগে কলকাতার বরো চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন সুশান্ত ঘোষ, পুরসভার পদ ছাড়েন অরূপ চক্রবর্তী। দলের বিরোধিতা করেন খোদ তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মুখপাত্র ঋজু দত্তরা। মমতার পাশে রয়েছেন গুটি কয়েক বিধায়ক-সাংসদেরা। এই নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলে বিজেপির বিরোধিতায় ধর্নায় বসেন মমতা। সেখানে একটা ছোট বাসস্ট্যান্ডে সিমেন্টের ইটের ওপর পাশে দোলা সেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। পায়ের কাছে ছিলেন বিধায়ক মদন মিত্র, অশোক দেব, ববি হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ফাটলটা একপ্রকার পরিষ্কার। একটি মাইকের আয়োজন করারও অনুমতি মেলেনি। অগত্যা নিজস্ব মাইকেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন মমতা। সেখান থেকে তৃণমূলের সঙ্গে বিশ্বাঘাতকতা করা 'গদ্দার'-দের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা।
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভপ্রকাশ করে মমতা বলেন, "যারা আজ গদ্দারি করছে। তৃণমূলকে ভাঙার জন্য। সবাইকে সমুতি দিক..। যাদের জন্য সবকিছু করেছি তারা এখন গদ্দারের সঙ্গে লাইন করছে।" তাঁর কথায়, "বলছে আমাকে সম্পদ বাঁচাতে হবে। সন্তানদের বাঁচাতে হবে। আজ দিলীপ মণ্ডল জেলে আছে কই মাথা নত তো করেনি।"
মমতার অভিযোগ, ইচ্ছা করে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘ওই রাস্তা দিয়ে গদ্দার যায়। ওখানে লাটসাহেব থাকেন। আমিও দেখব ভবিষ্যতে রানি রাসমণিতে কোনও কর্মসূচি হচ্ছে কি না। যদি সেখানে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়, তখন কোর্টে যাব। বলব, আমাদের ওখানে কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি।’’
মমতার আরও হুঁশিয়ারি, "মাইক কেড়ে নিলে কী হবে যেখানে যাব, সেখানেই বসে পড়ব। আমাকে আটকাতে পারবেন না। লড়াই চালিয়ে যাব, বিজেপিকে সরিয়েই ছাড়ব। বাংলায় ১৭৭ আসনে ভোট লুট হয়েছে। সংবিধান রক্ষা করব। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্ত।"
অভিষেককে হাসপাতালে ভর্তি নিয়েও ক্ষোভপ্রকাশ করলেন মমতা। সোনারপুরকাণ্ডে প্রতিবাদ করেন। মমতা বলেন, "অভিষেককে যখন মেরেছিল ওখানকার স্থানীয় লোকেরা বলেছে, ২৪ ঘণ্টা আগে বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসেছে। খাইয়েচে, দাইয়েছে। কী কী বলেছে সেটাও শিখিয়ে দিয়েছে। একটি লোকাল ছেলে হেলমেট দিয়েছে বলে, যদি পাথরটা ওর মাথায় লাগত মরে যেতে পারত ছেলেটা।"
মমতার আরও দাবি, বিজেপি বাদে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। সুদিনে না হোক দুর্দিনে তাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।