Advertisement

Mamata All India Trinamool Congress নাম পেয়ে ইন্দিরা গান্ধীর সুবিধে পেয়ে গেলেন মমতা?

দলে ভাঙন নতুন নয় ভারতীয় রাজনীতিতে। সিপিআই ভেঙেছিল। ভেঙেছিল কংগ্রেসও। ইন্দিরা গান্ধী গোষ্ঠীর কংগ্রেসের আলাদা নাম ছিল কংগ্রেস (আই)। ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী আবার প্রধানমন্ত্রীও হন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নামে নতুন দল খুলেছিলেন।

নতুন নাম পেয়ে লাভবান হল মমতাগোষ্ঠী, জানুন বিশ্লেষণনতুন নাম পেয়ে লাভবান হল মমতাগোষ্ঠী, জানুন বিশ্লেষণ
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 18 Sep 2026,
  • अपडेटेड 4:31 PM IST
  • কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল।
  • সেই তৃণমূলে ভাঙন।

নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগে মমতা আর ঋতব্রত গোষ্ঠীর দলের নাম আর নির্বাচনী চিহ্ন পাকা হয়ে গেল। মমতাপন্থীরা পেলেন 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' (Mamata All India Trinamool Congress)। প্রতীক 'ফুটবল খেলোয়াড়'। আর ঋতব্রতপন্থীদের ঝুলিতে এল 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস' (Democratic Trinamool Congress)। প্রতীক 'খাম'। তারপরই জল্পনা শুরু হল, নামকরণে কি সুবিধে পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা অংশ বলছে,  হ্যাঁ, অন্তত নামের দিক থেকে মমতার দলের পাল্লা ভারী। কীভাবে? সেটাই বোঝার চেষ্টা করব এই প্রতিবেদনে। 

আগামী ৬ অক্টোবরের বাংলায় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। তার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীকে বিকল্প নাম ও প্রতীক দিল নির্বাচন কমিশন। দলের আসল নাম ও প্রতীক নিয়ে দু'পক্ষের দাবি নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এটাই বহাল থাকবে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং দলের 'জোড়াফুল' প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কমিশন। মানে ওই প্রতীকে লড়তে পারবে না কোনও গোষ্ঠীই। মমতাপন্থীরা লড়বেন 'ফুটবল খেলোয়াড়' প্রতীকে। আর ঋতব্রত গোষ্ঠী ভোট চাইবে 'খাম' চিহ্নে। 

ভারতীয় রাজনীতিতে দলে ভাঙন নতুন নয়। সিপিআই ভেঙেছিল। ভেঙেছিল কংগ্রেসও। ইন্দিরা গান্ধী গোষ্ঠীর কংগ্রেসের নাম ছিল কংগ্রেস (আই)। মানে ইন্দিরা কংগ্রেস। ১৯৭৮-এর আগে ১৯৬৯ সালেও ভেঙেছিল কংগ্রেস। শেষপর্যন্ত ইন্দিরার বিরোধী গোষ্ঠী নয়, টিকে ছিল ইন্দিরা কংগ্রেসই। ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রীও হন। কারণ ইন্দিরা গান্ধীর ব্যক্তিগত ক্যারিশ্মা। ভোটারদের কাছে কংগ্রেস মানেই ইন্দিরা, ইন্দিরা মানেই কংগ্রেস।   

১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নামে নতুন দল খুলেছিলেন। এবার ভাঙল মমতার সেই তৃণমূলও। কিন্তু ইন্দিরার মতো মমতাও দলের সঙ্গে জুড়ে থাকলেন। তাঁর গোষ্ঠীর নাম মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। ইন্দিরার মতোই তৃণমূল মানেই মমতা, মমতা মানেই তৃণমূল। ভোটের প্রচারে বহুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে এসেছেন, ২৯৪টি আসনে তিনিই প্রার্থী। 

Advertisement

ইন্দিরার মতোই কি লাভবান হবেন মমতা? 

বাংলা ডট আজতক ডট ইন-কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র ফোনে জানান, 'মমতার নামটা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নামেই পার্টিটা চলে। দলটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক। তবে নাম দিয়ে সুবিধে হয় না। তৃণমূল সমর্থকরা মমতার দিকেই থাকবেন, এটাই আপাতত মনে হচ্ছে। দুই তৃণমূলের মধ্যে মমতার তৃণমূল এগিয়ে ছিলেন, এগিয়ে আছেন, এগিয়ে থাকবেন।  কোনটা আসল তৃণমূল, সেটা গ্রামের ভোটাররা জানেন। ভোটাররা অত্যন্ত বোকা, কিছুই বোঝে না এমনটা নয়'। 

আর এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,'আগেও দেখেছিলাম ইন্দিরা কংগ্রেস হয়েছিল। সেটা সাকসেসফুল হয়েছিল। নেতানেত্রীর নামে সুবিধে থাকে। মমতার সঙ্গেই তৃণমূলকে জুড়ে দেখেন মানুষ। নন্দীগ্রামের মানুষদের ভোট দিতে সুবিধে হবে। প্রতীকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আর একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নামটা বাদ দেয়নি। মমতা নামটা যোগ করে দেওয়া হয়েছে খালি'।   

গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া

গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কোহিনূর মজুমদার কটাক্ষ করলেন, 'দুটো দলের চরিত্র বোঝা যাচ্ছে। একটা দল গণতান্ত্রিক। যেখানে সবার মতের দাম আছে। আর একটা দল বলে দেবে আমার ভাইপোই কাল থেকে নেতা। মানতে হল, মানো, না হলে বাড়ি চলে যাও'। তিনি বলেন,'আসলে অভিষেক তৃণমূল হওয়ার কথা ছিল। মমতাকে শিখণ্ডী করা হল। এমন অ্যাডভান্টেজ পেল যে নন্দীগ্রামের প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেন। সোজা মুখ্যমন্ত্রীর পদতলে চলে গেলেন। বোঝাই যাচ্ছে, কারা অ্যাডভান্টেজ, কারা ডিসঅ্যাডভান্টেজ'।
 
 

Read more!
Advertisement
Advertisement