
খাস কলকাতায় জাল নোটের বান্ডিল নিয়ে ধরা পড়ল দুই যুবক। কলকাতার বড়বাজার এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে হাওড়ায় মিলেছে জাল নোট চক্রের হদিশ। আর এই ঘটনা সামনে আসার পরই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধার হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার তদন্তে নেমে গঙ্গার ওপাড়ের হাওড়ায় একটি সন্দেহভাজন জাল নোট তৈরির কারখানার হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
কীভাবে ধরা পড়ল?
জাল নোটের বিষয়ে পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল। সেই মতো স্ট্র্যান্ড রোড ও মীরবাহার ঘাট স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় দুই জনকে। ধৃতদের নাম বিজয়পাল তনওয়ার ওরফে অরবিন্দ (বয়স ২৩) এবং শিবা থাপাকে (বয়স ২৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশির সময় তনওয়ারের পিঠে থাকা ব্যাগ থেকে চারটি বান্ডিল উদ্ধার হয়। প্রথমে দেখে সেগুলি যে জাল, সেটা বোঝার উপায় ছিল না। বরং সেগুলিকে অনেক টাকার বান্ডিল বলে মনে হচ্ছিল। প্রতিটি বান্ডিলের উপরে ও নীচে রাখা ছিল আসল ৫০০ টাকার নোট। মাঝখানে ছিল নোটের মাপের ৯৯৮টি সাদা কাগজের টুকরো।
আর প্রতিটি বান্ডিলে জাল ICICI ব্যাঙ্কের লেবেল লাগানো ছিল। সেখানে ৫ লক্ষ টাকা করে রয়েছে বলে লেখা ছিল। সেই হিসেবে চারটি বান্ডিলের মোট মূল্য দেখানো হয়েছিল ২০ লক্ষ টাকা। যদিও উদ্ধার হওয়া আসল নোটের পরিমাণ মাত্র ৪ হাজার টাকা।
এই ঘটনার জন্য ২৭ অক্টোবর, ২০২৬বড়বাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ১৭১/২০২৬।
তদন্তে সামনে এসেছে হাওড়ার নাম
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত দুই ব্যক্তি পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য দেন বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। সেই সূত্র ধরেই হাওড়ায় পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে আরও দু'জনকে আটক করা হয়। তাঁদের নাম সুনীল কুমার বর্মা (৪৭) এবং গোপাল গুজ্জর (২৪)।
পুলিশের দাবি, হাওড়া থেকে জাল নোটের বান্ডিল তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে একটি প্রিন্টার, কাগজের ধার কাটার যন্ত্র, বন্ড পেপারের দু'টি বাক্স, সেলোটেপ মেশিন, কাঁচি এবং কালি ভরার কার্টিজ।
এই সরঞ্জাম উদ্ধারের পর জাল নোটের বান্ডিল তৈরির একটি সন্দেহভাজন সিস্টেমের হদিশ মিলেছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।