
উত্তরাখণ্ড, গুজরাত, অসমের পর এবার BJP শাসিত বাংলা। রাজ্য আসতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি অথবা Uniform Civil Code (UCC)। যা নিয়ে অবশ্য অবশ্য ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে বিরোধীদের একাংশ। কী এমন বদল হবে এই আইন বলবৎ হলে? কেন হচ্ছে বিরোধিতা?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, 'এক একটি সম্প্রদায়ের জন্য যদি আলাদা আলাদা আইন থাকে তাহলে দেশ এগোতে পারবে না।' তবে কি UCC লাগু হলে খর্ব হবে ধর্মীয় স্বাধিকার?
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কথাটির অর্থ হল, বিভিন্ন ধর্ম, বিভিন্ন আচার-বিচারের মানুষের জন্য একটিই আইন। যেটা বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, সন্তানের অভিভাবকত্ব, পারিবারিক অংশীদারি ইত্যাদি বিষয়ের আইনি সীমারেখা নির্ধারণ করবে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ১৫টি পারিবারিক আইন চালু রয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে সেগুলি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।
বিয়ে ও ডিভোর্সে একই আইন
পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি হলে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে জাত-ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের জন্য চালু হবে একই আইন। বর্তমানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, পার্সি, সকলের আলাদা আইন বা রীতিনীতি রয়েছে।
এত দিন বিয়ের সামাজিক অনুষ্ঠানটাই মূল ছিল। বিয়ের রেজিস্ট্রেশন ইচ্ছার উপরে নির্ভরশীল ছিল। এ বার তা বাধ্যতামূলক হবে। এক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রারকে বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের আর্জি খারিজ করার ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে। র ফলে ১৮ বছরের কমবয়সি মেয়েদের বিয়ে, প্রতারণা রোখা যাবে বলে মত BJP সরকারের। তবে সরকারি নজরদারি ও ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলছে বিরোধিরা।
সম্পত্তির উত্তরাধিকার আইনেও বদল
UCC লাগু হলে সম্পত্তির ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর সমান অধিকার দেওয়া হবে। পুত্র ও কন্যা সন্তানকে বাবা-মায়ের সম্পত্তির সমান অধিকার দেওয়া হবে। মুসলিমদের ক্ষেত্রে কন্যা সন্তান বা হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্বামীহারা স্ত্রীদেরও উত্তরাধিকারী হিসেবে সমান মর্যাদা ও অধিকার থাকবে।
ডিভোর্স
দম্পতির মধ্যে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা না থাকাই বিবাহবিচ্ছেদের একমাত্র কারণ হিসাবে চিহ্নিত হবে ডিভোর্সের ক্ষেত্রে। ধর্ম বদলে দ্বিতীয় বা বহুবিবাহ করার সুযোগ দেওয়া বন্ধ হবে।
লিভ ইন সম্পর্ক
লিভ ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কাছে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হবে UCC-তে। যদি কোনও নাবালক বা নাবালিকা লিভ ইন সম্পর্কে থাকতে চান, তাহলে অভিভাবকের সম্মতিও বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি লিভ ইন সম্পর্কে থাকা যুগলের সন্তানকে বৈধ সন্তানের স্বীকৃতি দেওয়া হবে এই আইনে।
সন্তান দত্তক
এক্ষেত্রেও একক আইন কার্যকর করা হয়েছে। সব সম্প্রদায়ের নাগরিকদের জন্য একই দত্তক নিয়ম প্রযোজ্য। ধর্মভেদে আলাদা আইন আর থাকবে না।
সংখ্যালঘুদের আশঙ্কা
কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আশঙ্কা, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি-র নামে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের আইন বা সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে সংখ্য়ালঘুদের উপরে।