
বদলে গেল 'ভগবানের আপন দেশ'-এর নাম ৷ দক্ষিণী এই রাজ্য়ের নাম পরিবর্তনে সিলমোহর দিল মন্ত্রিসভা ৷ মঙ্গলবার কেরলের নাম বদলে 'কেরলম' করার আর্জিতে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৷ চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে কেরলে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ৷ তার আগে রাজ্যের নাম বদলে ছাড়পত্র দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ ৷ এদিন 'কেরলম' নাম বদলের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে ফের পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কেরলে বিজেপি ও সিপিএমের জোট নিয়েও কটাক্ষ করেছেন।
মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেরলের 'কেরলম' হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সব জায়গার নাম বদল হয় রাজ্য সরকারের অনুমোদন নিয়ে। বাংলার ক্ষেত্রে অনুমোদন থেমে রয়েছে। বাংলার ছেলে মেয়েদের সবচেয়ে লাস্টে যেতে হয়। আমাকে লাস্টে চান্স দেওয়া হয় অ্যালফাবেটিক্যাল। আমি বারবার প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বারবার মিটিং বলেছি। কিন্তু বাংলা বিরোধীরা তা করছে না। বিধানসভায় ২ থেকে ৩ বার বিল পাস হয়েছে। কেরলে বিজেপি সিপিএম জোট হয়েছে। বাংলা বঞ্চিত থেকে গেল, কেরল পেয়ে গেল। আপনার চলে যাবেন। আদায় করে ঠিক নিয়ে আসব। মমতা জানালেন, কেরলে বিজেপি এবং সিপিএমের ‘যোগের’ কারণেই নাম পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। সেই ‘যোগ এখন লিখিত’। অথচ বাংলাকে বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের তরফেও ২০১৮ সালে রাজ্যের নামবদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের প্রস্তাব ছিল পশ্চিমবঙ্গ নাম বদলে সব ভাষাতেই ‘বাংলা’ লেখা হোক। তবে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে যুক্তি দেওয়া হয় যে, পড়শি রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে রাজ্যের প্রস্তাবিত নাম প্রায় এক হয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আবার প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে গিয়েছে, এমন খবরও নেই। কেন্দ্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাব এখনও বিবেচনাধীন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের নাম বদলে বাংলা রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজনীতির টানাপোড়েনে আজও সে ফাইল আটকে। নাম বদলে অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। উল্লেখ্য, রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে গেলে সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারকে প্রস্তাব পাঠাতে হয়। তার পর সেই প্রস্তাব বা আর্জি খতিয়ে দেখে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।এই বিষয়ে ভারতীয় রেল, ডাক বিভাগ, গোয়েন্দা দফতরের মতামতও জেনে নেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুমোদন পেলে তা বিল আকারে সংসদে পেশ করা হয়। সেখানে ওই বিল পাশ হওয়া পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলে আনুষ্ঠানিক ভাবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শেষ হয়। এদিন কেরলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনও উত্তর দেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।