
রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার ক্ষেত্রে যে প্রতিশ্রুতিগুলি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছিল, সেই তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে বাংলায় শিল্পের অগ্রগতি। বিজেপি নেতারা বঙ্গবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন, 'ডবল ইঞ্জিন' সরকার এলে বাংলায় শিল্পের জোয়ার আসবে। নতুন সরকার গঠনের পর ইতিমধ্যেই একাধিক কারখানার ভিত্তিস্থাপন করে সেই প্রতিশ্রুতি পালন করছে বিজেপি সরকার। আর এবার আরও একটি নতুন প্রস্তাব। পশ্চিমবঙ্গে সার, রাসায়নিক, পেট্রোকেমিক্যাল এবং উন্নত মানের বিটুমেন উৎপাদন পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাধিক পর্যায়ে বড় শিল্প বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে উৎক্রম কেমিক্যালস প্রাইভেট লিমিটেড। জানা গিয়েছে, বাংলার পাশাপাশি, অসমেও বিনিয়োগ করবে এই সংস্থাটি।
প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল রাশিয়ার প্রযুক্তি হস্তান্তর, ন্যাফথা সংগ্রহ এবং বছরে ৬০ হাজার মেট্রিক টন বিটুমেন উৎপাদনের লক্ষ্য। সংস্থাটি উন্নত সার উৎপাদন প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় সার উৎপাদন ও প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। প্রস্তাবিত Technology Transfer and Technical Cooperation মডেলের মাধ্যমে সার উৎপাদন প্রযুক্তি, প্রক্রিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং, প্ল্যান্ট কনফিগারেশন, অটোমেশন, প্ল্যান্ট চালু করার সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান ভারতে স্থানান্তরের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
কাঁচামাল সংগ্রহের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক, এই দুই তরফেই কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থার। একদিকে যেমন IOCL-এর কাছ থেকে ন্যাফথা সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রিফাইনারির কাছ থেকেও কাঁচামাল সংগ্রহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সার ও পেট্রোকেমিক্যালের পাশাপাশি বিটুমেন এবং উন্নত রাস্তা নির্মাণ সামগ্রীর ক্ষেত্রেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে Utkram Chemicals। সংস্থার দাবি, একটি উৎপাদন কেন্দ্র বর্তমানে নির্মাণের পর্যায়ে রয়েছে এবং সেখানে বছরে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বিটুমেন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
সংস্থার উদ্যোক্তাদের দাবি, এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে সার, পেট্রোকেমিক্যাল, বিশেষায়িত রাসায়নিক এবং বিটুমেন—এই চারটি ক্ষেত্রকে এক ছাতার তলায় এনে বড় মাপের একটি সমন্বিত শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলাই লক্ষ্য। পাশাপাশি ‘Make in India’, আমদানি নির্ভরতা কমানো, প্রযুক্তির দেশীয়করণ, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক শিল্পোন্নয়নেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করা হয়েছে।
যদিও, প্রস্তাবিত প্রকল্প এখনও সম্ভাবনার স্তরে রয়েছে। এখনও, চূড়ান্ত চুক্তি, অর্থের সংস্থান, বিভিন্ন ধরনের সরকারি ছাড়পত্র এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের উপর নির্ভর করবে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ।