
৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘরে রাজ্য সরকারের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করা হবে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একথা জানিয়েছেন। রাজ্যে নতুন শিল্পস্থাপন করলে কী কী সুবিধা, ভরতুকি পাওয়া যাবে তা এই নীতিতে থাকবে। ফলে শিল্পমহল এদিকে তাকিয়ে আছে। এদিকে এরাজ্যে আদানি ও অম্বানির মতো শিল্পপতিরা বিনিয়োগ করতে চান, সেকথা আগেই জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার আরও একটি গ্রুপ এরাজ্যে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করল। বুধবার নবান্নে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল । বৈঠক শেষে নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই আলোচনা সম্পর্কে জানান শুভেন্দু অধিকারী । আসানসোলে একটি বড় শিল্প ইউনিট গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন শিল্পপতি অনিল আগরওয়াল।
১০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার জানিয়েছেন যে বেদান্ত গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল আসানসোলে কারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রাজ্য সচিবালয় নবান্নে শিল্পপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী এও উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০,০০০ প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ সহজতর করতে রাজ্য সরকার গোষ্ঠীটিকে সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা দেবে। তবে তিনি প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ বা প্ল্যান্টটির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেননি। শুভেন্দু অধিকারী জানান, 'তিনি এখানে এসেছিলেন এবং আমাদের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। তিনি আসানসোলে একটি ইউনিট স্থাপন করতে চান এবং তাঁর কাছে জমিও রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে যে কোনও ধরনের সহায় তা প্রদান করব।' শুভেন্দু অধিকারী এও জানান, অনিল আগরওয়াল তাঁকে বলেছিলেন যে বেদান্ত সাতটি রাজ্যে সক্রিয় থাকলেও পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কারণে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দূরে ছিল।
অ্যালুমিনিয়াম কারখানাগড়তে চায় বেদান্ত
বিদ্যুৎ, খনি ও ধাতু, পশ্চিমবঙ্গে বেদান্তর লগ্নি পরিকল্পনায় এই তিন ক্ষেত্র জোরালে ভাবে ঠাঁই পেয়েছে, বুধবার কলকাতায় এসে তা স্পষ্ট জানিয়েছেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণঘার অনিল আগরওয়াল। সূত্রের খবর, আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা গড়তে চায় বেদান্ত। প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজও দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী তারা। কয়লার জোগান এবং চালু পরিকাঠামোর সুবিধা থাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির জন্য আসানসোলকেই সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে বেদান্ত। তা ছাড়া আসানসোলে গোষ্ঠীর প্রায় ৩০০ একর জমি রয়েছে। সেখানে কারখানা গড়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে প্রকল্পের জন্য আরও জমির প্রয়োজন হতে পারে।
৮০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ!
অনিল আগরওয়াল জানিয়েছেন, সমীক্ষার ফল অনুকূল হলে এবং সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া গেলে ৩ বছরের মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলি চালু করা সম্ভব হতে পারে। বেদান্তর বিবৃতিতেও বিনিয়োগ ও ১০ হাজার কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হয়েছে। তবে বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অনিল আগরওয়াল। অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও ভাবছে বেদান্ত। দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। কয়লা ও জল পাওয়ার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং পরিকাঠামো—সব দিক খতিয়ে দেখেই এগোবে সংস্থা।
তৃণমূল আমলে বিনিয়োগ হয়নি কেন?
তৃণমূল শাসিত পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। তাই দেশের একাধিক রাজ্যে বিনিয়োগ করলেও এ রাজ্যে লগ্নিতে কখনওই আগ্রহ প্রকাশ করেনি বেদান্ত গোষ্ঠী। রাজ্যে পালাবদলের পর বুধবার নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সে কথাই জানিয়ে গেলেন বেদান্ত গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল। এদিন বিষয়টি সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উনি রাজ্যে বিনিয়োগ করার বিষয়ে খুবই আগ্রহী। নির্দিষ্ট প্রস্তাবও দিয়েছেন। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে একটা ইউনিট তিনি করতে চান। সেখানে প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থান হবে। তবে কেন এ রাজ্যে এতদিন তিনি লগ্নি করেন নি, সে প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূল কংগ্রেস ছিল বলে উনি এই রাজ্যে ইনভেস্টমেন্ট করেননি। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, কাটমানি, তুষ্টিকরণ, ল লেসনেস থাকায় তাঁর এই অনাগ্রহের কথাও মুখ্যমন্ত্রীকে জানান অনিল। শুভেন্দু বলেন, ‘তিনি নিজেই আমাকে বললেন যে, আমি এ রাজ্যে আসিনি, তার কারণ হচ্ছে এই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার ছিল। আমি সাতটা রাজ্যে ইনভেস্ট করেছি, সাতটাই বিজেপি রুল। বিজেপি রুল রাজ্যে ইন্ডাস্ট্রি এবং বিজনেস ফ্রেন্ডলি এনভায়রনমেন্ট থাকে, এখানেও আপনারা ধীরে ধীরে তৈরি করেছেন। আমি এখানে ইনভেস্টমেন্ট করব।’