
Kunal Ghosh Apology: ক্ষমা চাইলেন কুণাল ঘোষ। বিধানসভার ঘটনার দু'দিনের মাথায় লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক। জানালেন, স্পিকারের প্রতি কোনও অসম্মানজনক আচরণ করা তাঁর অভিপ্রেত ছিল না। শুক্রবার বিধানসভায় তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস এনেছিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তারপরেই স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কুণাল বলেন, 'সে দিন আমি স্পিকারের বিরুদ্ধে একটি শব্দও প্রয়োগ করিনি। তা সত্ত্বেও ওঁর মনে আঘাত লেগে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু আমার মূল প্রশ্ন একটাই, আমাকে সভা কক্ষে বলতে দেওয়া হচ্ছে না কেন?'
কুণাল জানান, স্পিকারকে অসম্মান করার কোনও মানসিকতা তাঁর ছিল না। দলের সমীকরণ ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তিনি বারবার বিধানসভায় নিজের কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কুণালের অভিযোগ, উল্লেখ পর্ব বা দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাবে বক্তব্য রাখার অনুমতি মিললেও মূল অধিবেশনের বক্তার তালিকা থেকে বারবার তাঁর নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কুণালের বক্তব্য, সেই 'ক্ষোভ' থেকেই বুধবার তিনি প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছিলেন। কুণাল নিঃশর্ত দুঃখপ্রকাশ করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শঙ্কর ঘোষ। বলেন, 'বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সমস্যা তাদের নিজেদেরই আলোচনা করে মিটিয়ে ফেলা উচিত। এতে শাসকদলের কোনও ভূমিকা নেই।'
গত বুধবার স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট বিতর্কের সময় ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখছিলেন। ঠিক তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কুণাল। আখরুজ্জামানের আসনের সামনে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'আমার নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হচ্ছে কেন?' স্পিকার বারবার কুণালকে শান্ত হয়ে নিজ আসনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু কুণাল অনড় থাকেন। এরপর স্পিকার তাঁকে সভা থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরেই মার্শালের সঙ্গে তুমুল ধস্তাধস্তি ও টানাটানিতে মেঝেতে পড়ে যান কুণাল। তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। ঘটনার প্রতিবাদে কালীঘাট শিবিরের বিধায়করা একযোগে ওয়াকআউট করেছিলেন।