Advertisement

TMC-ই মারছে? অভিষেক, কল্যাণের ওপর হামলায় পুলিশি তদন্তে যা উঠে আসছে

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই, ঠিক পরের দিনই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর ওপর হামলার অভিযোগ তোলেন। তারপর থেকেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। দুই রাজনৈতিক দল একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ চালিয়ে যাচ্ছে, আর এদিকে পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাটির তদন্ত করছে।

 কারা হামলা করল? কারা হামলা করল?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 01 Jun 2026,
  • अपडेटेड 10:28 AM IST

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর  হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই, ঠিক পরের দিনই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর ওপর হামলার  অভিযোগ তোলেন। তারপর থেকেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। দুই রাজনৈতিক দল একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ চালিয়ে যাচ্ছে, আর এদিকে পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাটির  তদন্ত করছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্ন্দ্যোপাধ্যায়ের  বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় পুলিশ প্রথমে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। পরে ষষ্ঠ একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্ত সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা, যারা সোনারপুর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন।

সোনারপুর পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছে
ঘটনার পর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সোনারপুর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে। এদিকে, এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডা তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে, অন্যদিকে বিজেপি নেতারা নির্বাচনের ফলাফলের পর সৃষ্ট জনরোষকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

বিজেপি যে অভিযোগগুলো করছে
বিজেপি সূত্র অনুযায়ী, এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ছয়জন মাত্র এক মাস আগেও প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। এই তথ্য  প্রশ্ন তুলেছে, এই হামলাটি কি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল, নাকি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল? তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কি এখন প্রকাশ্যে আসছে? বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্সে পোস্ট করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ছয়জন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যারা প্রায় এক মাস আগেও তাঁর (লাভলি মৈত্র) সঙ্গেই ছিলেন। 

টিএমসি এটিকে বিজেপির  প্ররোচনা বলে দাবি করছে
এদিকে, শনিবারের ঘটনার পরপরই টিএমসি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি শেয়ার করেছে। দলটির দাবি, বিজেপি মন্ডল সভাপতি অভিজিৎ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভিড়কে উসকানি দিচ্ছিলেন। টিএমসি প্রশ্ন তুলেছে, যদি এটি  স্বাভাবিক জনরোষ হয়ে থাকে, তাহলে এত বড় ভিড় কারা জড়ো করেছিল? কার নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছিল? পরে তৃণমূল  আরেকটি ছবি প্রকাশ করে আকাশ গায়ান নামে এক ব্যক্তিকে হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করে। টিএমসি দাবি করেছে, তিনি বিজেপির কর্মী। সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপের কথা উল্লেখ করে দলটি আবারও অভিযোগ করে, বিজেপিই এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

Advertisement

এদিকে  বিজেপি রাজ্য  সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর দলের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনা  সুস্থ সমাজের জন্য সহায়ক নয়। তবে, তিনি এও ইঙ্গিত দেন, বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের ফলেই এমনটা হতে পারে।

পুলিশ কী বলছে?
পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর রাতভর অভিযান চালানো হয় এবং ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা টিএমসি, কেউই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।

রবিবার, টিএমসি সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও  দাবি করেছেন, তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, কেউ তাঁর মাথায় পাথর ছুঁড়ে মারে। কল্যাণ ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং মাথা চেপে ধরেন। এই হামলার বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, 'যদি তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়ে থাকে, তাহলে তাঁর মাথা থেকে রক্ত বের হতে কি কেউ দেখেছে? এই দল মিথ্যা প্রচার করে তা জাহির করতে চায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কে বিশ্বাস করে?' তিনি আরও বলেন, ‘জেলগুলোতে জায়গার অভাব হবে, তাই কিছু লোককে তিহার জেলে পাঠাতে হবে, পশ্চিমবঙ্গের জেলগুলো  ছোট হয়ে যাবে...।’

Read more!
Advertisement
Advertisement