Advertisement

West Bengal Assembly: ভোটাভুটিতে OBC সংরক্ষণের জোড়া সংশোধনী বিল পাশ বিধানসভায়, ঋতব্রতরা কী করলেন?

সোমবার বিধানসভায় OBC আইন সংশোধনে ও ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিল পেশ করেন অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। ভোটাভুটিতে জোড়া এই বিল পাশ হয়ে গেল। বিরোধিতায় ওয়াটআউট করলেন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়করা।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ জোড়া বিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ জোড়া বিল
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 29 Jun 2026,
  • अपडेटेड 1:22 PM IST
  • জোড়া OBC সংরক্ষণ আইন সংশোধনী বিল পাশ
  • ভোটাভুটিতে বিল ২টি পাশ হল বিধানসভায়
  • ওয়াকআউট করলেন তৃণমূল (ঋতব্রতপন্থী) বিধায়করা

ভোটাভুটিতে রাজ্য বিধানসভায় পাশ হল OBC আইন সংশোধনী জোড়া বিল। সোমবার বিধানসভায় OBC আইন সংশোধনে ও ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিল পেশ করেন অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। সেই বিলের উপরে আলোচনা শুরু হয়। প্রথম থেকেই এই বিল নিয়ে সরগরম ছিল রাজ্য বিধানসভা। এই বিলের উপর ভোটাভুটি চান ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। কিন্তু ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ না করে ওয়াকআউট করেন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়করা। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে পাশ হয় এই বিলটি। 

কেন এই জোড়া বিল?
প্রথম বিলটি হল,  'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান SC অ্যান্ড ST) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্টস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল। দ্বিতীয়টি হল,  ‘The West Bengal Commission for Backward Classes (Amendment) Bill, 2026’। প্রথম বিলটি আনা হচ্ছে তৃণমূল জমানার ২০১২ সালের আইন সংশোধন করার জন্য।  দ্বিতীয় বিলের উদ্দেশ্য, বাম আমলের ১৯৯৩ সালের আইন সংশোধন করে অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের কার্যকারিতা স্পষ্ট ও শক্তিশালী করা।

কী অভিযোগ BJP বিধায়ক অরিজিৎ বক্সীর?
বিধায়ক অরিজিৎ বক্সীর অভিযোগ, আগের তৃণমূল সরকার কোনও আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে OBC সংক্রান্ত বিল পাশ করিয়েছিল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক তোষণের উদ্দেশ্যেই সেই সময় আইন আনা হয়েছিল এবং বিধানসভায় তা নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি। 

প্রসঙ্গ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ঘোষণা
শাসক পক্ষের বিধায়কের তরফে অভিযোগ ওঠে, '২০১১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২০১০ সালে ফেব্রুয়ারি ৮ বুদ্ধদেব ঘোষণা করেন, সরকারি চাকরিতে মুসলিমদের ১০ শতাংশ সংরক্ষণ দেবে।' এর বিরোধিতা করেন CPIM বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, তথ্যে ভুল হয়েছে এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাইটার্স বিল্ডিং থেকে সংরক্ষণ ঘোষণা করেছিলেন। তার প্রেক্ষিতও জানান তিনি। 

নওশাদ সিদ্দিকি ভোটাভুটি চাননি
OBC বিলের বিরোধিতা করলেন ISF বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তিনি বলেন, 'OBC সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধিতা তৈরি হবে, OBC সম্প্রদায়ের উন্নতি হবে না। সংরক্ষণের পরিমাণ কমিয়ে OBC সম্প্রদায়ের সঙ্গে বঞ্চনা করা হবে। ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ না করে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত গাইডলাইন মেনে OBC তালিকা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত। OBC সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কেরলম ও তামিলনাড়ুর মডেল অনুসরণ করলে তা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।' তিনি ভোটাভুটি চাওয়ায় সম্মতি দেন স্পিকার। 

Advertisement

ওয়াকআউট ঋতব্রতপন্থীদের
OBC আইন সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে অংশ না নিয়ে ওয়াকআউট করেন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়করা। যদিও মমতাপন্থীরা ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করেন। ১৮৬টি ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এই বিল পাশ হয় বিধানসভায়। বিলের বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭টি। ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। তাঁরা হলেন, বাইরন বিশ্বাস, মোশারফ হোসেন, কাজল শেখ এবং তৌফিকুর রহমান। 

কী কী সংশোধন করা হচ্ছে নতুন বিলে? 
OBC সংরক্ষণের জন্য শিডিউল ১-এ 'ক্যাটিগরি এ'-র আওতায় ৬৫টি এবং 'ক্যাটিগরি বি'-তে ৭৮টি জনগোষ্ঠীর তালিকা ছিল তৃণমূল আমলে। সেই শিডিউল ১ বাদ দিয়ে OBC নাগরিকদের অনগ্রসরতার নিরিখে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করতে পারবে সরকার। সেই মতো এক একটি শ্রেণির জন্য সংরক্ষণ হবে। অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে রাজ্য OBC-র জন্য সংরক্ষিত পদের শতাংশ ঠিক করবে। কোনও শ্রেণিকে অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন কমিশন পরীক্ষা করবে।  কমিশন প্রয়োজন মনে করলে সেই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেবে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement