
রাজ্য বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই রাজ্যপালকে ভাষণ দিতে হয়। এটাই নিয়ম। তবে এবার বিধানসভা অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই বিজেপি ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। এই অবস্থায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বিধানসভা কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চান। রাজ্যপালকে থামাতে ও ভাষণ দেওয়ানোর জন্য তাঁর কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের নিজেই এই কথা জানালেন তিনি।
আরও পড়ুন : Aeroponic Potato Farming Technique : শূন্যে ফলবে আলু, জেনে নিন টেকনিক; ফলন হবে ১০ গুণ বেশি
এদিন বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতেই বিজেপি হইহট্টগোল শুরু করে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান গেরুয়া শিবিরের বিধায়করা। রাজ্যের পুরভোটে হিংসার অভিযোগ তোলেন তাঁরা। দফায় দফায় চলে বিক্ষোভ।
এদিকে রাজ্যপাল আসেন বিধানসভায়। তাঁর প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা। কিন্তু, হইহট্টগোল এতটাই বেশি ছিল যে, রাজ্যপাল ভাষণ শুরুই করতে পারেননি। একাধিকবার বিধায়কদের বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ব্যর্থ হন। দেখেশুনে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যেতে চান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের বিধায়করা রাজ্যপালের কাছে ভাষণ শুরুর অনুরোধ করেন।
এরপর সাংবাধিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ' রাজ্যপালের ভাষণ বন্ধ অসাংবিধানিক। আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করেছি। নির্বাচিত সরকারকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি মর্মাহত। এতে সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হতে পারত।'
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee's Flight Problem : '১০ সেকেন্ড হলেই ক্র্যাশ করত', বিমান 'বিভ্রাট'-এর কারণ জানালেন মমতা
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'BJP হেরে গিয়ে এসব করছে। এটা গণতন্ত্রের লজ্জা। রাজ্যপালের ভাষণের জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। আমাদের বিধায়করা অনুরোধ করেছেন। আমিও রাজ্যপালের কাছে অনুরোধ করেছি। আমি অনুরোধ করি উনি যেন একলাইনও পড়েন। রাজ্যপাল ভাষণ করবেন না, এটা হতে পারে না। তবে রাজ্যপাল আমাদের কথা রেখেছেন। সেজন্য ধন্যবাদ।'
বিজেপিকে তোপ দেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'নিজের ওয়ার্ডেও হারে BJP-র প্রার্থীরা। পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা করা হয়েছে। তবে রাজ্যপাল পড়েছেন। এটা গণতন্ত্রের জয়।'