
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা অধিবেশন এবার থেকে লাইভ স্ট্রিমিং হবে জনসাধারণের জন্য। শুক্রবার বিধানসভায় এ কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সর্বসম্মতিক্রমে বিধানসভার স্পিকার পদে নির্বাচিত হন রথীন্দ্রনাথ বসু। তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তৃতা রাখার সময়েই বলেন, 'গঠনমূলক বিরোধিতা চাই। বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়। এখানে বিরোধী দলনেতাকে ১১ মাস অধিবেশনের বাইরে রাখা হয়েছিল। তেমনটা আর হবে না।'
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার পদের জন্য নির্বাচিত হলেন রথীন্দ্রনাথ বসু। তিনি কোচবিহার দক্ষিণের নির্বাচিত বিধায়ক। এক এক করে তাঁকে অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ISF বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, CPIM বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, AJUP বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সহ অন্যরা।
নিয়ম মেনে প্রথমে বলতে উঠেই শুভেন্দু বলেন, 'আগামী পাঁচ বছর এই বিধানসভা রাজ্যের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য গঠনমূলক ভাবে কাজ করবে। বিরোধীরা বক্তব্য পেশের সুযোগ পাবেন। তবে প্রথম থেকেই বিধানসভার কার্যপ্রণালী বানচাল করার প্রয়াস থেকে বিরোধী বিধায়কেরা বিরত থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করছি আমি।' তারপরই তিনি জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষও যাতে জানতে পারে, শাসক এবং বিরোধী পক্ষের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কী বক্তব্য রাখছেন বিধানসভায়। সে কারণেই এবার থেকে বিধানসভার কার্যপ্রণালী লাইভ স্ট্রিম করা হয়। যাতে নিজেদের বিধায়কদের কার্যপদ্ধতি, বিরোধীদের আচরণ এবং সরকারের কাজের পদ্ধতি সবটাই মানুষ নিজের চোখে দেখতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, 'অতীতের সব তিক্ততা ভুলেই বলছি, এই ভবনে নির্বাচিত বিধায়কদের পারফরম্যান্স যাতে জনগণ দেখতে পান, সেটার ব্যবস্থা করা দরকার। আমরা চাই না বিধানসভায় নির্ধারিত কর্মসূচি অহেতুক ভেস্তে দিক বিরোধীরা। আমরা চাই না কোনও অপরাধ ছাড়াই ১১ মাস কোনও বিরোধী নেতাকে হাউসের বাইরে থাকতে হোক। আমরা চাই না কোনও বিরোধী বিধায়ককে রক্তাক্ত অবস্থায় বিধানসভা ছাড়তে হয়। সক-বিরোধী ৫০-৫০ এও সমীকরণ থেকে সরে আসবে না সরকার।'
সংখ্যায় অনেক কম হলেও বিরোধীরা যাতে বলার সুযোগ পাবেন সে অনুরোধ রাখেন নওশাদ, মোস্তাফিজুররা।