
এ এক আজব বিধানসভা! পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। বেশ মজারও। এমন একটি বিধানসভা, যেখানে তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে শাসক ও বিরোধীদল। একদিকে শাসকদল ও একদিকে বিরোধী দল, একে অপরকে আক্রমণ, বিতর্ক, এটাই সংসদীয় গণতন্ত্রে দেখে অভ্যস্ত জনতা। কিন্তু বাংলার বিধানসভায় মূল ঝগড়া চলছে বিরোধী দলের সঙ্গে বিরোধী দলের।
তৃণমূলের দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব বিধানসভায়
বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে মঙ্গলবার যা ঘটল, তার নির্যাস, শাসকদলের কাজ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, দুই বিরোধী দলকেই নিশানা করা। বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল বিধায়করা রয়েছেন। আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের তৃণমূল বিধায়করাও রয়েছেন। সংখ্যার বিচারে ঋতব্রতই এখন বিরোধী দলনেতা। আবার মমতা-পন্থী বিধায়কদের কাছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা। মঙ্গলবার বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (মমতা-পন্থী) যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তাতে দেখা গেল, তাঁর আক্রমণের অভিমুখ অনেকটাই ঋতব্রতদের দিকে।
তৃণমূল বিধায়কের নিশানায় তৃণমূল বিধায়ক
রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়কেই যেমন দেখা গেল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে টার্গেট করলেন। আবার মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ নিশানা করলেন ঋতব্রত শিবিরকে। সমর মুখোপাধ্যায় বললেন, 'আমি পুরোহিত, পুজো অর্চনা করি। কিন্তু কী করে আমি যেন কৃষি মন্ত্রী হয়ে গেলাম। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেবে যে তিনি দুধকুমার মণ্ডলের মত একজনকে কৃষিমন্ত্রী করেছেন। শুধু বলব, পাঁচ বছর ভাল করে কাজ করুন যাতে ডিম না খেতে হয়।'
ঋতব্রতদের নিশানা কুণালের
আবার মমতাপন্থী কুণাল বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করলেন। স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে কুণাল বললেন, 'আমি যখন জনগণের কথা বলতে উঠছি, তখন আপনি আমাকে বলতে দিচ্ছেন না, পদে পদে বাধা দিচ্ছেন। অথচ ওই মেরুদণ্ডহীন, ব্যাকডোর থেকে আসা বিরোধী দলনেতা যখন এখানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন, তখন আপনারা সবাই মিলে টেবিল, বেঞ্চ চাপড়ান।' ঋতব্রত শিবিরের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, 'আপনার আশীর্বাদে আজ ওদিকে যে নতুন শিবির তৈরি হয়েছে, সেখানে যাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির বড় বড় অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই-ইডি বা পুলিশের কেসগুলো এবার ঠিকঠাক চলবে তো? মুখ্যমন্ত্রী যা যা ব্যবস্থা নিয়েছেন তার পূর্ণ সমর্থন করছি। কিন্তু যাঁরা-যাঁরা হঠাৎ তৃণমূলের সঙ্গে ঝগড়া করে বাঁচার চেষ্টা করছেন, তাঁদের একটাকে বাঁচতে দেবেন না।'
কুণালকে আশ্বস্ত করলেন শুভেন্দু
কুণালের এই দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আগে সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছেন। আপনারা যদি ওদের বিরুদ্ধে চুরি-দুর্নীতি-ত্রিপল লুকিয়ে রাখা অবৈধ সম্পত্তি করার তথ্য থাকলে আমাদের দেবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।'