
'বাংলায় ছায়া বিরোধী তৈরি করল শাসক দল'। বিধানসভার অন্দরে তৃণমূলের ভাঙন প্রসঙ্গে এমনটাই মত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের। তাঁর কথায়,'ওটা আর বিরোধী দল থাকল না'। কংগ্রেস ভেঙেই এককালে তৈরি হয়েছিল তৃণমূল। 'ঘরওয়াপসি' কি হবে? শুভঙ্করের বক্তব্য, যাঁরা তৃণমূলকে ভালবেসে গিয়েছিলেন, তাঁদের তো আর জায়গা থাকল না। প্রত্যেকের জন্য দরজা খোলা।
আপাতত ৫৮ বিধায়কের সমর্থনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ঘটনায় শুভঙ্কর সরকার বলেন,'তৃণমূলের প্রতীকটা কার কাছে থাকবে? তবেই তো দল ভাঙার প্রশ্ন আসে। যাঁরা বিরোধী হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন, তাঁদের প্রতীকটা কী? আমার তো মনে হচ্ছে, রাজ্যের শাসক দল একটা ছায়া বিরোধী তৈরি করল। বস্তুত রাজ্যে কোনও বিরোধী দলই থাকল না। পশ্চিম বাংলার রাজনীতিতে এটা কালো দিন। রাজ্যের গণতন্ত্রের ইতিহাসে লজ্জার অধ্যায় শুরু হল'।
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙেই জন্ম হয়েছিল তৃণমূলের। শুভঙ্করের পূর্বসূরী অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছেন,'২০১৬ সালে রাজ্যের বিরোধী আসনে থাকা একের পর এক কংগ্রেস বিধায়কদের ভাঙিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি ২০২৩ সালে সাগরদিঘিতে উপনির্বাচন জেতা কংগ্রেসের বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসকেও দলে টেনেছিল'। ইতিহাসের কি পুনরাবৃত্তি হল? শুভঙ্কর সরকারের মতে,'যে কোনও ব্যক্তি আলাদা দল তৈরি করতেই পারেন। কিন্তু দল তৈরি করার পর ক্রমাগত তার আগের দলকে ধ্বংস করেছেন। সেদিনের কুশীলব (পড়ুন মমতা) আজ হয়তো অনুভব করছেন, আমারা কতটা আঘাত পেয়েছিলাম। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এটাই ভাবছেন যে আমি কী করেছিলাম! নিজেকেই জিজ্ঞেস করুন, কেমন লাগছে? ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না'।
তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ঘরওয়াপসি করতে চাইলে কি নেবেন? শুভঙ্কর সরকার জানান,'যাঁরা তৃণমূলকে ভালোবেসে গিয়েছিলেন, তাঁদের তো আর তৃণমূল করার জায়গা থাকল না। সত্যিকারের নিষ্ঠার সঙ্গে তৃণমূল দল যাঁরা করেন, তাঁদের আর নিষ্ঠা সেখানে থাকবে না। নিজেদের আদর্শ নীতি ধরে রাখতে পারবেন না। প্রত্যেকের জন্য দরজা খোলা। যাঁরা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে চলতে পারবেন, তাঁরাই আসবেন'।
'ভাল তৃণমূল'কে দলে নেওয়া হবে বলে ইতিমধ্যেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তেমন বাদ-বিচার কি কংগ্রেস? শুভঙ্করের বক্তব্য,'খারাপ তৃণমূল আমাদের দিকে আসবে না। কেন জানেন?
আমাদের কাছে ওয়াশিং মেশিন নেই। খারাপ তৃণমূলীরা ইডি-সিবিআই-আয়কর দফতর থেকে বাঁচার ওয়াশিংমেশিন খুঁজবেন। আমাদের কাছে তাঁরাই আসবেন, যাঁরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান। তাঁরা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৃহত্তর লড়াইয়ের একজন সৈনিক হবেন। তাঁদের জন্য দরজা খোলা'।