
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষ বিপাকে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও সেই দেশে অনেকে বেড়াতে গিয়েছেন। সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে আরামবাগের ৬৫ জন আটকে। এই অবস্থায় রাজ্যের হেল্প লাইন নম্বর চালু করল সরকার।
নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে জানান, ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার সবরকমভাবে দুর্গতদের পাশে আছে। তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াবে। সরকার সাধ্যমতো কাজ করছে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ১০০-রও বেশি ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন। ফলে তাঁদের পরিবারের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
তবে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকে ঠিক কতজন মানুষ নেপালের বন্যায় আটকে পড়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, সেই সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। ওই সংখ্যা যাচাই করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, 'যাঁরা নেপালে আটকে পড়েছেন তাঁদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকাজে যাতে কোনওরকম দেরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই ভারতীয় দূতাবাস ও প্রশাসনিকস্তরে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।'
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান জানিয়েছেন, নেপালে থাকা ভারতীয় নাগরিক কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজন হলে কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। দূতাবাসের ফোন ও WhatsApp নম্বর +977 985 131 6807 এবং +977 970 910 7500।
কলকাতার ভবানী ভবনে পৃথক পুলিশ কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। সেখানে যোগাযোগের জন্য 03324793311 এবং 9147890181 নম্বর দেওয়া হয়েছে। নেপালে আটকে থাকা বা নিখোঁজ কোনও পশ্চিমবঙ্গবাসীর বিষয়ে তথ্য থাকলে এই নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করার অনুরোধও করেছেন তিনি।
নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল নিখোঁজ ভারতীয়দের নিরাপদে খুঁজে বের করা। তাঁদের দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলি। শুভেন্দু অধিকারীর বার্তাতেও সেই উদ্বেগই স্পষ্ট হয়েছে।