
রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর। তাঁদের আর্থিক ভাবে সুবিধা দিতে এবার অ্যাডভান্স স্যালারির বন্দোবস্ত করছে নবান্ন। সরকারি কর্মীদের জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে 'West Bengal Salary Advance Scheme' চালু হতে চলেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মীরা নিজেদের বেতনের ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিম টাকা তোলার সুযোগ পাবেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজন, পারিবারিক দায়িত্ব, পড়াশোনার খরচ কিংবা অন্য কোনও আকস্মিক আর্থিক সমস্যায় পড়লে এই সুবিধা কাজে আসবে।
এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গ অর্থ দফতরের তরফে মঙ্গলবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। অর্থ দফতরের ই-গভর্ন্যান্স গ্রুপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
দুই ধরনের অ্যাডভান্সের সুযোগ
এই প্রকল্পে মূলত দুই ধরনের অগ্রিম পাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
১. স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম (Short-Term Advance): এই ব্যবস্থায় কোনও সরকারি কর্মী তাঁর অনুমোদিত নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অ্যাডভান্স পেতে পারেন। এই টাকা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে অথবা পরবর্তী বেতন থেকে কাটা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দিলে কোনও সুদ দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত সময়ের পরে টাকা কাটার বিষয়টি জানানো বা টাকা কাটার ক্ষেত্রে দেরি হলে, নির্দিষ্ট শর্তে অ্যাডভান্সের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত লেনদেন ফি নেওয়া হতে পারে। এই ফি-র মধ্যে GST-সহ সমস্ত প্রযোজ্য কর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে সরকারি দফতর, DDO অথবা টাকা কাটার ব্যবস্থার কারণে দেরি হলে এই ফি নেওয়া যাবে না।
এক্ষেত্রে কোনও প্রসেসিং ফি, প্ল্যাটফর্ম ফি, কনভিনিয়েন্স ফি বা সাবস্ক্রিপশন ফি নেওয়া হবে না। এমনকী স্বল্পমেয়াদি অ্যাডভান্সের উপর কোনও সুদ বা পেনাল চার্জও ধার্য করা যাবে না।
২. দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিম (Multi-Month Advance): এই ব্যবস্থায় সরকারি কর্মীরা ২ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৬০ মাস পর্যন্ত কিস্তিতে টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে কর্মীর অবসরের তারিখের পরে এই ঋণের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না।
এই অগ্রিমের ক্ষেত্রে কর্মীর নেট পে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ক্রেডিট দেওয়া যেতে পারে। তবে কত টাকা অ্যাডভান্স দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা ঋণপ্রদানকারী সংস্থার ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্টের উপর।
এক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি বা EMI-র সর্বোচ্চ সীমা হবে কর্মীর সংশ্লিষ্ট মাসের নেট পে-এর ৫০ শতাংশ। সুদের হার এবং অন্যান্য চার্জ সম্পর্কে টাকা দেওয়ার আগেই কর্মীকে বিস্তারিত জানাতে হবে। এজন্য Key Fact Statement বা KFS দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রে বার্ষিক সুদ ও অন্যান্য চার্জ মিলিয়ে APR সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টাকা ফেরত দিতে চাইলে কোনও Foreclosure বা Pre-payment Charge নেওয়া যাবে না।
একসঙ্গে একটির বেশি অ্যাডভান্স নেওয়া যাবে না। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মীর নামে একই সময়ে একটির বেশি অ্যাডভান্স চালু রাখা যাবে না। অর্থাৎ, কেউ স্বল্পমেয়াদি অ্যাডভান্স নিলে সেই টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি অ্যাডভান্স নিতে পারবেন না। একইভাবে দীর্ঘমেয়াদি অ্যাডভান্স চলাকালীন নতুন করে স্বল্পমেয়াদি অ্যাডভান্সও নেওয়া যাবে না।
আগের অ্যাডভান্স সম্পূর্ণ পরিশোধ বা Foreclosure করার পরেই নতুন করে অগ্রিম নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে ঋণপ্রদানকারী সংস্থা Top-up Facility দিলে সেই সুবিধা প্রকল্পের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী পাওয়া যেতে পারে।
কী ভাবে টাকা ফেরত দিতে হবে?
এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বেতন থেকে সরাসরি কিস্তির টাকা কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা। কর্মীর ডিজিটাল সম্মতি নেওয়ার পরেই বেতন থেকে টাকা কাটার অনুমতি দেওয়া হবে।
WBIFMS এবং HRMS ব্যবস্থার সঙ্গে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে কর্মীর বেতন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, অগ্রিম মঞ্জুরি এবং টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কর্মীর বেতন থেকে প্রয়োজনীয় টাকা কেটে নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
কোনও কর্মী চাকরি ছেড়ে দিলে, অবসর নিলে বা অন্য কোনও কারণে সরকারি চাকরি থেকে বিচ্ছিন্ন হলে, নির্দিষ্ট নিয়ম এবং কর্মীর দেওয়া Standing Instruction অনুযায়ী চূড়ান্ত পাওনা থেকে ঋণের টাকা আদায়ের ব্যবস্থা থাকতে পারে।
পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার মোটর সাইকেল, স্কুটার, মোপেড এবং ইলেকট্রিক টু-হুইলার কেনার জন্য অ্যাডভান্স লোনের আর্থিক সীমাও বৃদ্ধি করল।
মোটর সাইকেল, স্কুটার ও মোপেড কেনার ক্ষেত্রে প্রথম অ্যাডভান্স হিসেবে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। তবে এই অ্যাডভান্সের পরিমাণ ৩টি বিষয়ের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। সেগুলি হল, ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, ৫ মাসের বেসিক বেতন অথবা সংশ্লিষ্ট গাড়ির সম্ভাব্য মূল্য।