
রাজ্যে কাস্ট সার্টিফিকেট (Caste Certificate) নিয়ে প্রশাসনিক কড়াকড়ি এখন তুঙ্গে। তৃণমূল জমানায় পাওয়া জাতিগত শংসাপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে নবান্ন। জানা যাচ্ছে, এই যাচাইয়ের কাজে ইতিমধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্র সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ১৩৫টি শংসাপত্র।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্রগুলির সত্যতা খতিয়ে দেখতে জোরদার অভিযান শুরু করেছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক যাচাইয়েই একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সেইসঙ্গে কয়েক হাজার নথি এখন বিশদ তদন্তের মুখে। সন্দেহের তালিকায় ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্র রয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। গত ১৫ বছরে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্রের পুনর্যাচাই শুরু করেছে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর। যাচাইয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত মোট ১,২২,১১৭টি জাতিগত শংসাপত্র পুনর্যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬,৭৫০টি (প্রায় ৬২.৮%) শংসাপত্র বৈধ বলে নিশ্চিত করেছে দফতর। যাচাইয়ের পর ইতিমধ্যেই ১৩৫টি কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩টি এসসি, ৪১টি এসটি এবং ১১টি ওবিসি শংসাপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ১৩৫টি কাস্ট সার্টিফিকেটের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই সবথেকে বেশি বাতিল হয়েছে। অবৈধ শংসাপত্র বলে ২৯ টিকে ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে রাজ্যে এসসি, এসটি, ওবিসি সার্টিফিকেট নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে দুয়ারে সরকার শিবিরে খুব কম সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষকে জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। এই সব শংসাপত্রগুলি ভুয়ো বলে অভিযোগ ওঠে। রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে, তৃণমূল আমলে দেওয়া জাতিগত শংসাপত্র ঝাড়াই বাছাই চলছে। প্রথমে দুয়ারে সরকার শিবির থেকে দেওয়া শংসাপত্রগুলির যাচাই করছে নবান্ন।
সন্দেহের তালিকায় থাকা ৪৫,৩৬৭টি শংসাপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের শুনানির জন্য ডাকা হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। শুনানিতে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণপত্র জমা দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কাস্ট সার্টিফিকেটও অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করা হবে। সেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।