
তৃণমূল জমানায় জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্রই (OBC Certificates) বাতিলের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। এই নির্দেশের ফলে OBC-A এবং OBC-B সার্টিফিকেট বাতিল করা হল। বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আলাদা করে ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি বলে কিছুই নেই। ফলে সেগুলির আর বৈধতা থাকল না। এবার থেকে সকলেই সাধারণ শ্রেণী (General Category)।
ঘটনা হল, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানাতেই ওবিসি-কে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। সালটা ২০১০। তৃণমূল সরকারের জমানায় অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র নিয়ে দেখা দিয়েছিল বিতর্ক। উঠেছিল দুর্নীতির অভিযোগ। ওবিসি সার্টিফিকেটের নামে মুসলিমদের সুবিধে করে দেওয়া হয়েছে বারবার অভিযোগ করে বিজেপি। তারা ক্ষমতায় এসেই ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি তুলে দিয়েছে। এখন ওবিসি একটাই শ্রেণি।
বলে রাখি, ২০২৪ সালেই ৬৬ সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বাতিল হয়েছিল তাদের ওবিসি সার্টিফিকেট। নতুন করে সমীক্ষা করে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে দেশের শীর্ষ আদালত। সেই মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
মোদ্দা কথা, তৃণমূল জমানায় দেওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেটের আর কোনও বৈধতা থাকল না। ফলে ওবিসি সার্টিফিকেট যাঁরা পেয়েছিলেন, তাঁরা সমস্যায় পড়লেন। তবে বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে যে জটলিতা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রণিধানযোগ্য, ওবিসি কোটা ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ করেছিল তৃণমূল। সেটা আবার ৭ শতাংশেই ফিরিয়েছে বিজেপি সরকার। ৭৮টি সম্প্রদায়কে বাদ দিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন তালিকা। এখন ঠাঁই পেয়েছে ৬৬ সম্প্রদায়।