
রসগোল্লায় জিতেছে বাংলা। জয়নগরের মোয়াও GI ট্যাগ পেয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। এ বার চানাচুরের পালা। বেশ কিছু বছর ঝুলে রয়েছে বাংলার চানাচুরের জিআই ট্যাগ পাওয়ার ইস্যুটি। এ বার সম্ভবত নিষ্পত্তির পথে।
বাংলার চানাচুরের জিআই ট্যাগের আবেদন
চানাচুর ব্যবসায়ী সংগঠন দাবি করেছিল, ডালমুট, ভুজিয়া, গাঠিয়া ইত্যাদি স্ন্যাকস জাতীয় খাবার অন্য রাজ্যে তৈরি হলেও চানাচুরের মালিক এই বাংলার। এখানেই তৈরি হয়েছিল মুখোরচক এই নোনতা খাবার। দেশে-বিদেশে সমানভাবে জনপ্রিয় এই চানাচুর। তাই চানাচুরের জিআই বাংলারই প্রাপ্য। পালাবদলের পরে সংগঠনের ওই আর্জি গত ৯ জুলাই বাতিলের আবেদন জানানো হয় সরকারের মাধ্যমে।
বাংলার চানাচুরের জিআই ট্যাগের আবেদন
সেই চানাচুরের জন্যই ভৌগলিক পরিচয় ও নাম বদলে নতুন করে জিআই তকমা পেতে চায় কলকাতা চানাচুর হিসেবে। সূত্রের খবর, জিআই পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের দেওয়া তথ্য বাতিল করে নতুন নামে নতুন পরিচয়ের জন্য আবেদন করার এমন ঘটনা সম্ভবত প্রথম। গত মঙ্গলবার 'কলকাতা চানাচুরের' জিআই ট্যাগ পাওয়ার আর্জি গ্রাহ্য হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের দাবি, নথিপত্র ঠিক মতো জমা না হওয়াতেই নাকি এই নাম বদল।
বাংলায় কীভাবে চালু হয়েছিল চানাচুর?
বাংলা অ্যাকাডেমির অভিধান বলছে, চানাচুর একেবারেই বাঙালি নাম। চানা মানে ছোলা ও চুর অর্থাত্ গুঁড়ো। প্রাচীন ভারতে বেসন ও ডাল ভেজে তৈরি হালকা খাবারের প্রচলন দীর্ঘদিনের। উত্তর ও পশ্চিম ভারতে যা 'মিশ্র নমকিন', 'বম্বে মিক্স' বা 'ভুজিয়া' নামে পরিচিত। বাংলা ও তার আশেপাশের অঞ্চলে তা ‘চানাচুর’ বা ‘ডালমুট’ হিসেবে নিজস্ব রূপ নেয়। ছোলার ডাল ভাজা বা ছোলার বেসনের ঝুরি এর প্রধান উপাদান হওয়ায় এর নাম হয় চানাচুর। প্রথম দিকে চানাচুর বাঙালির নিজস্ব জলখাবারের তালিকায় খুব একটা পরিচিত ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে তার জনপ্রিয়তা বাড়ে। একসময় মুড়ি মাখার সঙ্গী হয়ে ওঠে চানাচুর। তৈরি হয় ঝালমুড়ির নতুন স্বাদ। যদিও একসময় চানাচুর ছাড়াই মুড়ি মাখার চল ছিল। কলকাতা চানাচুর নামে জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার উদ্যোগ সফল হলে, বাংলার এই জনপ্রিয় খাবারের আঞ্চলিক পরিচিতি আরও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।