
পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি থানায় কালীপুজো করতে হবে। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নিদান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই বিতর্কে এবার 'প্রায়শ্চিত্তের' সাফাই দিলেন জগন্নাথ। তাঁর দাবি, প্রতিটি থানায় কালীপুজো করে পুলিশকে এ বার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।
পুলিশ সংস্কৃতির অঙ্গ কালীপুজো: জগন্নাথ
সিউড়িতে এক অনুষ্ঠানে যাবতীয় বিতর্কের সূত্রপাত। সেই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, রাজ্যে প্রতিটি থানায় এ বার সাড়ম্বরে কালীপুজো হোক। পুলিশের সংস্কৃতির সঙ্গে কালীপুজো জড়িয়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, 'প্রত্যেক থানায় সাড়ম্বরে কালীপুজো হোক। রঘু ডাকাতও কিন্তু ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে মা কালীর পুজো করে যেতেন। বাঙালির সংস্কৃতিতে যেমন স্কুলে সরস্বতী পুজো রয়েছে, পুলিশ সংস্কৃতির অঙ্গ কালীপুজো করানো। এটার মধ্যে ধর্মাচার নেই। থানায় কালীমূর্তি থাকা দরকার। চোর যখন থানায় ঢুকবে, তখন মনে মনে বলবে মা যেন ছাড়া পাই। আর পুলিশ যখন বেরোবে, তখন প্রার্থনা করবে, আসামি যেন ধরা পড়ে।'
'পুলিশকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে'
মন্ত্রীর বার্তার পরেই পশ্চিমবঙ্গের সব থানাতে কালীপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে বহু থানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলেও কালীপুজো হত। এ বার কোনও থানাই বাদ যাবে না কালীপুজো থেকে। থানায় কালীপুজো করার বার্তায় জগন্নাথের ব্যাখ্যা, পুলিশের সংস্কৃতির অঙ্গ কালীপুজো। একই সঙ্গে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থানায় কালীপুজো করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন, এই দুইয়ের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ থানায় কালীপুজো করুক।
'প্রতি থানায় এমনিতেই কালীপুজো হয়'
জগন্নাথারে কথায়, 'গত কালীপুজোয় আমরা কী দেখেছি? মা কালীকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তুলছে। আর এটা পরের বছরের কালীপুজো। সনাতনী বাঙালি প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে সনাতনী সরকারকে। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে তো সেই প্রায়শ্চিত করতে হবে। মা কালীকে তাঁরা গতবার প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন। এবারে কালীপুজোয় থানায় থানায় পুজো করে সেই প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। এই তিনটি কারণেই বলেছিলাম থানায় থানায় কালীপুজো করতে। প্রতি থানায় এমনিতেই কালীপুজো হয়।'