Advertisement

West Bengal Rain : একসঙ্গে সক্রিয় ৫ ঘূর্ণাবর্ত, পশ্চিমবঙ্গে ব্য়াপক বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি

মৌসুমি অক্ষরেখা হল বর্ষাকালে ভারতের উপর দিয়ে বিস্তৃত একটি দীর্ঘ নিম্নচাপ বলয়। এটিকে বর্ষার 'মূল রাস্তা' বলা যায়। বর্ষার অধিকাংশ নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্ত বা বৃষ্টিবাহী আবহাওয়া ব্যবস্থা এই রেখা বরাবর চলাচল করে।

এই সেই স্যাটেলাইট ছবি এই সেই স্যাটেলাইট ছবি
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ও কলকাতা ,
  • 22 Jul 2026,
  • अपडेटेड 8:30 PM IST
  • IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকবে
  • ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও ছত্তিশগড়েও বৃষ্টি চলবে

ফের সক্রিয় হয়েছে বর্ষা। যার প্রভাব পড়তে চলেছে পূর্ব ভারতেও। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের উপর ঘন মেঘের বিস্তার দেখা গিয়েছে। ইসরোর INSAT-3DR ও INSAT-3DS উপগ্রহচিত্রে তা দেখা গিয়েছে। 

আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্ত সহ মোট পাঁচটি ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমি অক্ষরেখা একসঙ্গে সক্রিয় হওয়ায় আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্ষা সক্রিয় হওয়ার জেরে দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের সমতল অঞ্চলে ফের বৃষ্টি শুরু হবে। 

ঘূর্ণাবর্ত কী?

ঘূর্ণাবর্ত হল নিম্নচাপযুক্ত একটি ছোট এলাকা। যেখানে বাতাস উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরতে থাকে। এটি ঘূর্ণিঝড়ের মতো শক্তিশালী না হলেও কাজ প্রায় একই। চারপাশ থেকে জলীয় বাষ্প টেনে এনে তা উপরে উঠতে সাহায্য করে। উপরে উঠে বাতাস ঠান্ডা হলে মেঘ তৈরি হয় এবং সেখান থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়।

বর্তমানে IMD জানিয়েছে, পাঁচটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। যথা হরিয়ানা, উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থান, উত্তর ছত্তীসগড় এবং পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর। 

মৌসুমি অক্ষরেখা কী?

মৌসুমি অক্ষরেখা হল বর্ষাকালে ভারতের উপর দিয়ে বিস্তৃত একটি দীর্ঘ নিম্নচাপ বলয়। এটিকে বর্ষার 'মূল রাস্তা' বলা যায়। বর্ষার অধিকাংশ নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্ত বা বৃষ্টিবাহী আবহাওয়া ব্যবস্থা এই রেখা বরাবর চলাচল করে। এবার এই অক্ষরেখার আশপাশে পাঁচটি ঘূর্ণাবর্ত একসঙ্গে সক্রিয় থাকায় বিভিন্ন দিক থেকে আর্দ্র বাতাস এসে মিলিত হচ্ছে। ফলে দ্রুত মেঘ তৈরি হচ্ছে এবং ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইসরোর উপগ্রহচিত্রে কী দেখা গিয়েছে?

২২ জুলাই সকালে INSAT-3DR-এর ইনফ্রারেড ছবিতে দেখা যায়- পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের উপর ঘন, উঁচু মেঘের বিস্তার। বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পশ্চিম অংশে অত্যন্ত শক্তিশালী মেঘমালা তৈরি হয়েছে। মেঘের উপরের অংশের তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ থেকে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গিয়েছে। যা প্রবল বজ্রগর্ভ মেঘের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে আরব সাগরের দিক থেকেও আর্দ্রতা ঢুকছে। ফলে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর- দুই দিক থেকেই জলীয় বাষ্প সরবরাহ হচ্ছে।

Advertisement

INSAT-3DS কী দেখিয়েছে?

রাতের তাপীয় ও জলীয় বাষ্পের ছবিতে দেখা যায়, আরব সাগর থেকে গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি দীর্ঘ মেঘের ব্যান্ড তৈরি হয়েছে। উপরের বায়ুমণ্ডলেও প্রচুর জলীয় বাষ্প রয়েছে, ফলে বৃষ্টি দীর্ঘ সময় ধরে চলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এল নিনো থাকলেও এত বৃষ্টি হচ্ছে কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো সাধারণভাবে পুরো মৌসুমে বর্ষাকে দুর্বল করতে পারে। তবে প্রতিদিনের আবহাওয়া নির্ভর করে স্থানীয় আবহাওয়া ব্যবস্থার উপর। অর্থাৎ, পাঁচটি ঘূর্ণাবর্ত ও সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা একসঙ্গে থাকলে এল নিনোর প্রভাব সাময়িকভাবে কাটিয়ে কয়েকদিন প্রবল বর্ষা হতে পারে।

আগামী কয়েকদিন কী হতে পারে?

IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকবে। ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও ছত্তিশগড়েও বৃষ্টি চলবে। গুজরাত, মহারাষ্ট্র, কোঙ্কণ, গোয়া, পশ্চিম হিমালয় এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় জল জমা, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। 

সব মিলিয়ে, বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত, পাঁচটি সক্রিয় সাইক্লোনিক সার্কুলেশন এবং মৌসুমি অক্ষরেখার যৌথ প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিস্তীর্ণ অংশে আবারও বর্ষা জোরদার হয়েছে।

Read more!
Advertisement
Advertisement