
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মুরাসু দুর্বল হয়ে দূরে সরলেই তাপমাত্রার পারদ নামবে। পূর্বাভাসে জানাল আলিপুরের হাওয়া অফিস। ওই পূর্বাভাসে জানানো হল, চলতি সপ্তাহেই তাপমাত্রার বেশ কিছুটা পতন হবে। আলিপুরের হাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সৌরিশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে কত ডিগ্রি নামবে তাপমাত্রা?
আবহাওয়াবিদ সৌরিশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় মুরাসু সিস্টেম দুর্বল হয়ে দূরে সরে গেলেই রাজ্যে তাপমাত্রার পতন হবে। তাঁর কথায়, 'ঘূর্ণিঝড় শক্তি হারালেই ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পারদ পতন হবে। দিনের তাপমাত্রার খুব একটা পরিবর্তন হবে না। স্বাভাবিকের কাছাকাছিই থাকবে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকবে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৫ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকবে। তারপর আরও কমে ২২ থেকে ২৩ ডিগ্রির কাছাকাছি নামবে তাপমাত্রা।'
শীতকাল কবে থেকে শুরু হবে?
সৌরিশ জানালেন, বর্ষার যেমন নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় বলা যায়, শীতের ক্ষেত্রে সে রকম কিছু থাকে না। বললেন, 'আমাদের রাজ্যে পাহাড়ি এলাকায় একরকম তাপমাত্রা থাকে, পশ্চিমের জেলাগুলির তাপমাত্রা আগে কমে। ফলে ভৌগলিক প্রকারভেদের কারণে শীতের কবে প্রবেশ, তা নির্দিষ্ট ভাবে বলা যায় না। ৫ নভেম্বর থেকে পরবর্তী ২-৩ দিনে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি মতো তাপমাত্রা কমবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ২০-২১ ডিগ্রির কাছাকাছি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমবে।'
ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পড়বে না পশ্চিমবঙ্গে
আলিপুর হাওয়া অফিসের তরফে জানানো হল, ঘূর্ণিঝড় মুরাসু-র কোনও প্রভাব পড়বে না পশ্চিমবঙ্গে। স্থানীয় ভাবে দুএক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। সৌরিশের জানালেন, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের ওপরে যে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল, সেটি বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের নাম মুরাসু। এটি ভারতীয় নাম। তামিলনাড়ু থেকে নেওয়া। এটির অভিমুখ থাকবে পশ্চিম, উত্ত-পশ্চিমের দিকে। আজ অর্থাত্ ২ তারিখ এই ঘূর্ণিঝড় আরও শক্তি বাড়িয়ে Severe Cyclone বা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে।
৩ নভেম্বর ভোররাতে এটি অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত করার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাত্ নেল্লোরের কাছাকাছি ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা। ৩ তারিখ সকালে ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ ১০০ থেকে ১১০ কিমি প্রতিঘণ্টা ও সর্বোচ্চ ১২০ কিমি প্রতিঘণ্টা হতেঘূর্ পারে। তবে এই ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেকটাই দূরে। সরাসরি কোনও প্রভাব আমাদের রাজ্যের জন্য থাকছে না। স্থানীয় ভাবে দুএক জায়গায় হালকা ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।