
মেসি তো হ্যাটট্রিক করল, কী বলবেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইলেন না যুবভারতীতে লিওনেল মেসিকে 'বগলদাবা করে' ঘুরে বেড়ানো প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি বলেন, 'আমি তোমাদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেব না। আমাকে কথা বলতে বারণ করেছে আমার আইনজীবী। আমার আইনজীবী যা বলেছে, আমাকে তাই করতে হবে।'
তিনি আরও জানান, এই মামলা এখন বিচারাধীন। তাঁর যা বলার রয়েছে সেটা আদালতে বলবেন। পাশাপাশি 'সত্যের জয় হবে' বলেও দাবি করলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বুধবার সকালেই হ্যাটট্রিক করেছে লিওনেল মেসি। আর ঠিক তার পরের দিনই বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। তিনি যুবভারতীতে মেসি কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত। এর আগে তাঁকে একাধিকবার হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই ডাকে সাড়া দেননি।
আজ সকাল ৯টা ৫৫ নাগাদ বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন অরূপ। যুবভারতীর মেসি কাণ্ডের জন্যই তাঁকে দায়ী করেছেন সেই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। এমনকী খোদ লিওনেল মেসির টিম বিধাননগর থানায় এই নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন মেসি কাণ্ডে কয়েক ঘণ্টা জেরার মুখে পড়েন অরূপ। তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। তারপরই থানা থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
যদিও মাথায় রাখতে হবে, এই মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছেন অরূপ। যার ফলে তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব নয়। পুলিশ শুধু তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
উল্লেখ্য, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা হয়। অভিযোগ, এই সময় প্রভাব খাটিয়ে অনেকেই অনুমতি না নিয়ে মাঠে ঢুকে পড়েন। এমনকী তৎকালীন মন্ত্রী মেসিকে জড়িয়ে রাখেন বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে গ্যালারি থেকে মেসিকে দেখা যাচ্ছিল না। যার ফলে তেতে ওঠে গ্যালারি। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান মেসি। তারপরই দর্শকদের রাগ সপ্তমে ওঠে। শুরু হয়ে যায় ভাঙচুর।
যদিও মে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়। প্রথমে ৫ জুন তলব করা হয়। তবে হাজিরা দেননি অরূপ বিশ্বাস। আজ তিনি হাজিরা দিলেন। এরপরই থানা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি মুখ খোলেন। যদিও তিনি মেসিকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বরং জানিয়ে দেন যে এখন তিনি এই বিষয়ে কিছুই বলবেন না।