
দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেই কলকাতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে বাইরে থাকা দর্শনার্থীরা মণ্ডপের ভিতরে ঢুকতে শুরু করায় আচমকাই বাড়ে ভিড়ের চাপ। আগে থেকেই মণ্ডপে ভিড় ছিল যথেষ্ট। ফলে মানুষের যাতায়াত কার্যত কঠিন হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। দুর্ঘটনায় প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একটি টিভি চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান,'মাইকে পুজো কমিটির তরফে একটা ঘোষণার পর লোকজন হুড়োহুড়ি করতে শুরু করেন। যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে সরকার। অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। চোরবাগানের পুজো বন্ধ করা হয়েছে। দমকল ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দেখছেন। ২৫ জন আহত। ১৭ জনের মত্যু। ২৪ জনের অবস্থা স্থিতিশীল। একজনের অবস্থা আশঙ্কা'।
সরু গলি ও ভিড়ে বিপত্তি
উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে গত ৩-৪ দিন ধরেই প্রতিমা দর্শনের জন্য ভিড় জমাচ্ছিলেন অসংখ্য মানুষ। পুজোর জনপ্রিয়তার কারণে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দুর্ঘটনার সময়ও সেখানে বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ভিজে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন মণ্ডপের ভিতরে ঢুকতে শুরু করেন। ফলে আগে থেকেই থাকা ভিড়ের উপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
উত্তর কলকাতার ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা চোরবাগান। এখানকার রাস্তা ও গলিগুলি বেশ সরু। দুর্গাপুজোর সময়ে বহু মানুষের সমাগমে এমনিতেই যাতায়াতে সমস্যা হয়। তার উপর বৃষ্টির পরে মণ্ডপে ভিড় আরও বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। মানুষের ঢোকা-বেরোনোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। এই পরিস্থিতিতেই মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে।
তবে ঠিক কী কারণে মণ্ডপের কাঠামো ভেঙে পড়ল, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ভিড়ের চাপের সঙ্গে দুর্ঘটনার যোগ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
চোরবাগানের এই দুর্ঘটনার পর দুর্গাপুজোর মণ্ডপগুলিতে ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গত ৩-৪ দিন ধরে যেখানে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী আসছিলেন, সেখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? বৃষ্টির সময়ে দর্শনার্থীদের নিরাপদে রাখার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁদের দ্রুত বাইরে বের করে আনার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।