Advertisement

কলকাতায় জল জমা রুখতে বর্ষার আগে কী প্রস্তুতি? প্ল্যান জানিয়ে দিল পুরসভা 

কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ আমলে তৈরি ভূগর্ভস্থ ইটের নর্দমা এবং বিস্তৃত খাল-নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। ১৮৫৯ থেকে ১৮৭৫ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা এই ‘কম্বাইন্ড সিউয়ারেজ সিস্টেম’ এখনও শহরের জল নিষ্কাশনের প্রধান ভরসা।

ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে জল কলকাতার রাস্তায়। ফাইল ছবিঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে জল কলকাতার রাস্তায়। ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 23 Jun 2026,
  • अपडेटेड 12:08 PM IST
  • শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কেএমসি ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ নামে একটি বিশেষ অভিযানও শুরু করেছে।
  • কমিশনার জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

বর্ষা ঢুকে গেছে। আর বর্ষার সঙ্গে জল জমা, নিকাশি সমস্যা ও নগর জীবনের দুর্ভোগের আশঙ্কাও ফিরে এসেছে। তবে কলকাতা পুরসভা দাবি করেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা বর্ষাকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, কলকাতার ভৌগোলিক অবস্থান এবং পুরনো নগর কাঠামোর কারণে বর্ষাকালে জল জমার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তবে সম্ভাব্য সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের দুটি এলাকা হল উত্তর ও মধ্য কলকাতার ঠনঠনিয়া সংলগ্ন অঞ্চল এবং ভিআইপি রোড ও বিমানবন্দর এলাকা। এই অংশগুলিতে অতিবৃষ্টির সময় দ্রুত জল জমে যায়। উত্তর কলকাতার বহু এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং।

শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কেএমসি ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ নামে একটি বিশেষ অভিযানও শুরু করেছে। কমিশনার জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আশুতোষ কলেজ সংলগ্ন এলাকা আবর্জনামুক্ত রাখতে পারায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ আমলে তৈরি ভূগর্ভস্থ ইটের নর্দমা এবং বিস্তৃত খাল-নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। ১৮৫৯ থেকে ১৮৭৫ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা এই ‘কম্বাইন্ড সিউয়ারেজ সিস্টেম’ এখনও শহরের জল নিষ্কাশনের প্রধান ভরসা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরের বর্জ্য জল পূর্ব কলকাতা জলাভূমি ও কুলটি-বিদ্যাধরী নদী ব্যবস্থার দিকে বয়ে যায়।

বর্ষায় জল জমার সমস্যা মোকাবিলায় পুরসভা আধুনিক প্রযুক্তিরও সাহায্য নিচ্ছে। নর্দমা পরিষ্কারের জন্য ‘গ্লাভ প্রপালশন মেশিন’ এবং ‘হাইড্রোজ্যাটার’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গ্লাভ প্রপালশন মেশিনের সাহায্যে নর্দমার ভিতরে জমে থাকা আবর্জনা ও কাদা নিরাপদে পরিষ্কার করা যায়। অন্যদিকে হাইড্রোজ্যাটার উচ্চচাপের জল ব্যবহার করে পাইপ ও নালার ভিতরের বাধা দূর করে।

স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, ঠনঠনিয়ার পাশাপাশি হরিশ মুখার্জি রোড এলাকাকেও বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে। ওই অঞ্চলে জল জমার প্রবণতা কমাতে আলাদা প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা এক নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতের সাক্ষী হয়েছিল। ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় শহরে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়, যা শহরের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ২০ শতাংশ। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এ বছর আগাম প্রস্তুতি জোরদার করেছে পুরসভা।

পুরসভা জানিয়েছে, শহরের দীর্ঘ নিষ্কাশন-সংযোগ নালাগুলির নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। ডিম্বাকার আকৃতির এই পুরনো নালাগুলির রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিগতভাবে জটিল হলেও সেগুলিকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement