Advertisement

Debraj Chakraborty: ১০০ কোটির বেনামি সম্পত্তি? টিকিট না পেয়ে দলও ছেড়েছিলেন, দেবরাজের দ্রুত উত্থান কীভাবে?

জোর করে জমি দখল করে নেওয়া, আর্থিক অনিয়ম, তোলাবাজি সহ গাদা গাদা অভিযোগ রয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কীভাবে অভিষেকের কাছের লোক হয়ে উঠলেন তিনি?

দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সি দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 02 Jul 2026,
  • अपडेटेड 9:51 AM IST
  • আর্থিক অনিয়ম, তোলাবাজি সহ গাদা গাদা অভিযোগ
  • অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার
  • কীভাবে অভিষেকের কাছের লোক হয়ে উঠলেন?

পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে। জোর করে জমি দখল করে নেওয়া, আর্থিক অনিয়ম, তোলাবাজি সহ গাদা গাদা অভিযোগ রয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিষেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই দেবরাজের দাপট নিয়েও কম রটনা নেই। অল্পদিনের মধ্যে কীভাবে রকেট গতিতে উত্থান হল তাঁর? 

পালানোর চেষ্টা 
দিনকয়েক আগে আইনজীবী তথা বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁদের হয়ে মামলা লড়ায় অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন। কিন্তু এরপর অদিতিকে শিশুসন্তানের দেখভালের জন্য আগাম জামিন দিলেও স্বামীর আগাম জামিন মঞ্জুর হয়নি। এরপরই পরিণতি বুঝতে পেরে পুলিশের নাগাল এড়াতে পুরুলিয়া দিয়ে ঝাড়খণ্ডে ঢুকে পড়তে মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। পুলিশের জালে ধরা পড়লেন অভিষেক ঘনিষ্ট এই প্রাক্তন কাউন্সিলর। কিন্তু রাতারাতি অভিষেক ঘনিষ্ট হলেনই বা কী করে?

কীভাবে উত্থান দেবরাজের? 
কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক পূর্ণেন্দু বসুর আপ্তসহায়ক হিসেবে। এরপর বিধাননগর পুরসভার একটি ওয়ার্ডে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন দেবরাজ। কিন্তু খোদ পূর্ণেন্দুই তাঁকে টিকিট দেননি। চিড় ধরে 'মালিক-কর্মচারীর' সম্পর্কে। 

২০১৫ সালে বিধাননগরের সঙ্গে জুড়ে যায় রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভা। সেবারের ভোটে ফের প্রার্থী হতে ইচ্ছাপ্রকাশ করেন দেবরাজ। সেবারও বাধা এসেছিল কিন্তু তা মানেননি তিনি। ছেড়ে দেন তৃণমূল। যোগ দেন কংগ্রেসে। ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। ঝোড়ো প্রচারও করেছিলেন। তবে ভোটগ্রহণের দিন রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে জেলে গেলেও ভরা তৃণমূলের বাজারে কংগ্রেসের টিকিটে ড্যাং ড্যাং করে জিতেছিলেন দেবরাজ।

এরপর আবার তৃণমূলে কামব্যাক। আর ফিরে তাকাতে হয়নি। শান্ত-নম্র স্বভাবের দেবরাজ যুবদের মধ্যে ক্রমশই জনপ্রিয় হতে শুরু করেন। তাঁর উত্থানে  ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন অনেক প্রবীণও। তার মধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার যুব তৃণমূলের সভাপতি করা হয় দেবরাজকে। যুবর সভাপতি পদে তখন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলার যুব সংগঠনে দেবরাজের ভূমিকা অভিষেকের ঘনিষ্টবৃত্তে পৌঁছে দেয় তাঁকে। দলের মধ্যে ‘অভিষেকের লোক’ বলে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। দেবরাজকে দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতিও করেন অভিষেক। অনেকেই বলতে শুরু করেন, অভিষেকের রাজনৈতিক শৈলির ছাপ দেখা যাচ্ছে দেবরাজের মধ্যেও। 

Advertisement

কখনওই সংবাদমাধ্যমের সামনে তেমন আসতেন না দেবরাজ। সংগঠন চালাতেন কিছুটা যেন আড়াল থেকেই। ২০১৮ সালে দেবরাজ বিয়ে করেন সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সিকে। দেবরাজের রাজারহাট রোডের বাড়ির পাশাপাশি দমদম পার্কেও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সেখানে অদিতির গানের অ্যাকাডেমি চলে। রাজারহাটের বাড়িতে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন দেবরাজ।

যে পূর্ণেন্দুর সঙ্গে দেবরাজের সংঘাত হয়েছিল, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তাঁকে আর টিকিট দেয়নি তৃণমূল। বদলে প্রার্থী রা হয়েছিল অদিতিকে। স্থানীয়দের কথায়, নামেই বিধায়ক ছিলেন অদিতি। বকলমে সবটা সামলাতেন দেবরাজই। 

দেবরাজের 'দুর্নীতি'
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ায় দেবরাজের। তাঁর দুই বাড়িতেই রেড করে CBI। ভোট পরবর্তী হিংসা মামলাতেও একাধিকবার তাঁকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। 

তাঁদের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও হলফনামায় তা উল্লেখ করেননি অদিতি মুন্সি এবং দেবরাজ চক্রবর্তী, এই মর্মেই FIR দায়ের রয়েছে। এছাড়াও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ স্বামী-স্ত্রী দু'জনের বিরুদ্ধেই। 

সূত্রের খবর, তৃণমূল নেতার আয়বহির্ভূত সম্পত্তি ১০০ কোটিরও বেশি। এর পাশাপাশি জমি হাতানো, নির্বাচনের আগে বিপুল সম্পত্তি বিক্রি, নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি না দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। 

সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, দেবরাজের টাকা লেনদেন হত বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা রাম শর্মার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মারফত। সেই ব্যক্তিও ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত জানান, সেল ডিড এবং ডেভেলপমেন্ট ডিড নিয়ে যেভাবে টাকার অঙ্ক দেখানো হয়েছে তা বোঝায় খুবই উর্বরমস্তিষ্কের পরিকল্পনা। খুবই চতুর কাজ৷

এছাড়াও আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামি সম্পত্তি রাখা, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, জোর করে জমি দখল, ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ রয়েছে দেবরাজের বিরুদ্ধে। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement