
উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। এরপর একই ছুরি দিয়ে নিজের পেটেও আঘাত করেন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মহিলাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত স্বামী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম গীতা দাস। অভিযুক্ত তাঁর স্বামী সুভাষ দাস। বুধবার সকালে সোদপুরের ফিউচার গেট এলাকার স্কুল রোডে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল। বুধবার সকালেও রাস্তায় দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, সুভাষ আগে থেকেই ছুরি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। বচসার এক পর্যায়ে তিনি আচমকাই ছুরি বের করে গীতার ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালান।
রক্তাক্ত অবস্থায় গীতা রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাঁকে উদ্ধার করতে ছুটে এলে অভিযুক্ত তাঁদের দিকেও ছুরি নিয়ে তেড়ে যান বলে অভিযোগ। এরপর একই ছুরি দিয়ে নিজের পেটেও আঘাত করেন তিনি। গোটা ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে যায়। পরে রক্তাক্ত স্ত্রীর পাশেই রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায় সুভাষকে।
খবর পেয়ে খড়দহ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকে উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা গীতাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় সুভাষের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর অস্ত্রোপচার করা হবে।
ঘটনার তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুনে ব্যবহৃত ছুরিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ওই এলাকায় প্রায়ই অসামাজিক কার্যকলাপ ঘটে। তাঁদের দাবি, এলাকায় পুলিশি নজরদারি আরও জোরদার করা হোক।
ঘটনার খবর পেয়ে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উপ-নগরপাল কার্তিকচন্দ্র মণ্ডল-সহ পুলিশের পদস্থ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।