
ছুটির দিনে সবাই কমবেশি বিশেষ কিছু রেসিপি রান্না করে খান। তবে যে খাবারই রান্না করুন না কেন বাঙালির পাতে ভাতের সঙ্গে এই বর্ষায় ইলিশ না থাকলে কি চলে! এখন ইলিশ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। আর তা কিনতে গিয়ে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। দাম চড়া হলেও, রসনা তৃপ্তির সুযোগ ছাড়তে চাইছেন না কেউই। বর্ষার মরশুমের সবাই চান ইলিশের স্বাদটি নিতে।
ইলিশের প্রতি বাঙালির প্রেম আদি-অকৃত্রিম ও চিরন্তন। ইলিশের পেটি, গাদা, মুড়ো, তেল, কানকো, কাঁটা-সবই সমান উপাদেয়। তাই তো এই মাছের কিচ্ছুটি ছাড়া যায় না! ঝোল-ঝাল, তেল, অম্বল–সবেতেই যে সুখ মিলবে! আসলে এই রুপোলি শস্যটি আমাদের সংস্কৃতির একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সমস্যা হয় লেজাটি নিয়ে। অনেক পরিবারে ইলিশ মাছ খাওয়া হলেও পড়ে থাকে লেজের অংশটা। ল্যাজা খেতে অনেকেরই না পসন্দ! আপনিও যদি ইলিশের লেজটি খেতে না চান, তাহলে বানিয়ে ফেলতে পারেন সুস্বাদু রেসিপি ল্যাজা ভর্তা। এই পদটি বাংলাদেশের মাওয়া ঘাটের। তাই কেমন করে তৈরি করবেন দেখে নিন।
রইল মাওয়া ঘাটের ইলিশের লেজভর্তার রেসিপি-
উপকরণ-
১. ইলিশ মাছের লেজসহ টুকরো ৩-৫টি
২. হলুদ গুঁড়ো আধা চা চামচ
৩. লঙ্কার গুঁড়ো আধা চা চামচ
৪. নুন স্বাদমতো
৫. সর্ষের তেল পরিমাণমতো
৬. শুকনো লঙ্কা টালা ১০টি
৭. পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ
৮. লেবুর রস ১ চা চামচ
৯. ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ
পদ্ধতি
ইলিশ মাছের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর সামান্য হলুদ, লঙ্কার গুঁড়ো ও নুন মাখিয়ে নিন। এবার প্যানে পরিমাণমতো সর্ষের তেল গরম করে ইলিশ মাছের টুকরোগুলো ভেজে নিন। এমনভাবে মাছের লেজগুলো ভাজতে হবে যাতে উপরে বেশি শক্ত হয়ে না যায় আর মাছও যাতে ভালোভাবে সেদ্ধ হয়। এরপর মাছ ভাজা ঠান্ডা করে নিন। খুব সাবধানে ধৈর্য্য ধরে মাছের কাঁটা বেছে নিন। একই তেলে শুকনো লঙ্কা মচমচে করে ভেজে নিন। এরপর লঙ্কা ঠান্ডা করে এর সঙ্গে সামান্য নুন মিশিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এবার এর সঙ্গে পেঁয়াজ কুচি ও লেবুর রস মিশিয়ে মেখে নেবেন শুকনো লঙ্কা। তৈরি হয়ে গেল মরিচ ভর্তা। এবার এই ভর্তার সঙ্গে কাঁটা বেছে রাখা ইলিশ মাছ মিশিয়ে হাত দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। এর সঙ্গে স্বাদমতো সর্ষের তেল ও ধনেপাতা কুচি মিশিয়ে সব একসঙ্গে মাখিয়ে নিন। সবশেষে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন ইলিশের লেজ ভর্তা। এবার থেকে বাড়িতে ইলিশের ল্যাজা পড়ে থাকলে কোনও কিছু ভাবনা-চিন্তা না করে বানিয়ে ফেলুন এই রেসিপিটি।