
গরম ভাতের সঙ্গে বাঙালি বাড়িতে আলু-ঝিঙের ঝোলের জুড়ি মেলা ভার। আর সেই ঝোলে যদি মিশে যায় পোস্তর স্বাদ, তা হলে সাধারণ রান্নাও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ। বাঁকুড়ার গ্রামবাংলার রান্নার ধরনে ঝিঙে, আলু আর পোস্ত দিয়ে তৈরি এই পদটি স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনই রান্না করাও বেশ সহজ। প্রতিদিনের দুপুরের খাবারে একটু অন্যরকম স্বাদ আনতে চাইলে বানিয়ে ফেলতে পারেন ঝিঙে-আলুর ঝোল পোস্ত। অল্প কিছু উপকরণেই তৈরি এই রান্না একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করবে।
কী কী উপকরণ লাগবে?
এই রান্নার জন্য লাগবে ২টি মাঝারি আকারের ঝিঙে, ২টি মাঝারি আলু, ৩-৪ টেবিল চামচ পোস্ত, ২টি কাঁচালঙ্কা, আধা চা চামচ কালোজিরে, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, স্বাদমতো নুন, ৩-৪ টেবিল চামচ সর্ষের তেল এবং প্রয়োজনমতো জল। চাইলে ঝালের মাত্রা অনুযায়ী কাঁচালঙ্কার পরিমাণ বাড়াতে পারেন। এই রান্নায় খুব বেশি মশলার প্রয়োজন হয় না। বরং পোস্ত আর সর্ষের তেলের নিজস্ব গন্ধই খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়।
কীভাবে বানাবেন ঝিঙে-আলুর ঝোল পোস্ত?
প্রথমে ঝিঙে ও আলুর খোসা ছাড়িয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। ঝিঙে মাঝারি আকারের টুকরো করে কাটুন। আলুও লম্বাটে বা ছোট চৌকো টুকরো করে কেটে রাখুন। এবার পোস্ত অল্প জলে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তার পর পোস্ত ও কাঁচালঙ্কা একসঙ্গে বেটে মিহি পেস্ট তৈরি করে নিন। চাইলে শিলনোড়ায় পোস্ত বেটে নিতে পারেন। এতে পোস্তর স্বাদ ও গন্ধ আরও ভালোভাবে ফুটে উঠবে।
এবার কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করুন। তেল গরম হয়ে গেলে আঁচ মাঝারি করে আলুর টুকরোগুলি দিয়ে হালকা সোনালি করে ভেজে নিন। আলু ভাজা হয়ে গেলে তুলে রেখে একই তেলে কালোজিরে ফোড়ন দিন। কালোজিরে থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলে কাটা ঝিঙে দিয়ে দিন। এর সঙ্গে হলুদ গুঁড়ো ও স্বাদমতো নুন মিশিয়ে কয়েক মিনিট নাড়াচাড়া করুন।
ঝিঙে থেকে কিছুটা জল বেরোতে শুরু করলে ভেজে রাখা আলু কড়াইয়ে দিয়ে দিন। সব উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রান্না করুন। এবার বেটে রাখা পোস্তর পেস্ট দিয়ে ভালো করে নাড়ুন, যাতে ঝিঙে ও আলুর গায়ে পোস্ত মিশে যায়। প্রয়োজনমতো গরম জল দিয়ে কড়াই ঢেকে দিন। মাঝারি থেকে কম আঁচে ৮-১০ মিনিট রান্না করুন। মাঝে একবার ঢাকনা খুলে দেখে নিন আলু সেদ্ধ হয়েছে কি না এবং ঝোলের ঘনত্ব ঠিক রয়েছে কি না।
আলু সেদ্ধ হয়ে গেলে এবং পোস্তর কাঁচা গন্ধ চলে গেলে আঁচ বন্ধ করে দিন। ঝোল খুব বেশি পাতলা করবেন না। আবার একেবারে শুকনোও রাখবেন না। পোস্তর স্বাদ মিশে থাকা হালকা ঘন ঝোলই এই রান্নার আসল আকর্ষণ।
তবে মনে রাখবেন, বাঁকুড়ার গ্রামবাংলার রান্নার স্বাদ পেতে এই পদে অযথা গরমমশলা বা অতিরিক্ত মশলা ব্যবহার না করাই ভালো। সর্ষের তেল, কালোজিরে, কাঁচালঙ্কা আর পোস্তর স্বাভাবিক স্বাদই এখানে প্রধান। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন ঝিঙে-আলুর ঝোল পোস্ত। সঙ্গে ডাল বা ভাজা থাকলে দুপুরের খাবার হয়ে উঠবে জমজমাট। অল্প উপকরণে সহজে তৈরি এই নিরামিষ পদটি ব্যস্ত দিনের রান্নার জন্যও দারুণ বিকল্প।