
আগেকার দিনে পুজো আসলেই বাংলার বহু গৃহস্থ বাড়ির মা-ঠাকুমারা নিমকি তৈরি করেন। চা কিংবা কফির সঙ্গে এই নিমকি দুর্দান্ত কম্বিনেশন। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা অতিথিদের জন্য মুচমুচে নিমকির জুড়ি মেলা ভার।
মা মাসিমা সকলেই মিলে নিমেষেই বানিয়ে ফেলতেন ঝুড়ি ভর্তি নিমকি ও থালা ভর্তি মিষ্টি। তবে এখন এসব অতীত। ব্যস্ততার জীবনে এখন সেই ঝুড়ি ভর্তি নিমকি বানাতে অনেকই পারেন না। সেক্ষেত্রে হাতে কিছু সময় ও ঘরে কিছু উপকরণ থাকলেই আপনি নিমেষে বাড়িতে বানিয়ে ফেলতে পারবেন মচমচে সুস্বাদু নিমকি। তবে সমস্যা একটাই, কুচো নিমকি খেলে অনেকেরই নাকি অম্বল হয়। জেনে নিন কীভাবে তৈরি করলে এই সমস্যার সম্ভাবনা কমবে।
উপকরণ:
ময়দা – ২ বাটি
তেল – পরিমাণমতো
নুন – স্বাদমতো
কালোজিরে – ১ চা চামচ
জোয়ান – ১ চা চামচ
চিনি – সামান্য
প্রণালী
একটি পাত্রে ময়দা নিন। তাতে কালোজিরে, জোয়ান, নুন, স্বাদমতো অল্প চিনি দিন। অবশ্যই কালোজিরে কিছুক্ষণ শুকনো হাতে ঘষে নিয়ে তবেই দিন। তাতে গন্ধ ভালো হবে। এবার ভালো করে উপকরণগুলি ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে নিন। একটু বেশি করে তেল দিন। ভালো করে মিশিয়ে নিন। মনে রাখবেন, ময়াম যত বেশি হবে ততই মুচমুচে হবে নিমকি। জল দিয়ে ভালো করে ময়দা মেখে নিন। খেয়াল রাখবেন, ময়দা যেন বেশি নরম হয়ে না যায়। মাখা ময়দা কিছুক্ষণ হালকা সুতির কাপড় ঢাকা দিয়ে রেখে দিন। এরপর মাঝারি মাপের লেচি কাটুন। পাতলা করে বেলে নিন। আড়াআড়িভাবে কেটে নিন। এবার একটি কড়াইতে তেল গরম করুন। ধোঁয়া ওঠা গরম তেলে ওই নিমকিগুলি দিয়ে ভাজুন। হালকা থেকে মাঝারি আঁচে ভেজে নিলেই তৈরি নিমকি। এবার চা কিংবা কফির সঙ্গে জমিয়ে খান বাংলার স্ন্যাকস।
আর যাঁদের কুচো নিমকি খেয়ে অম্বলের প্রবণতা রয়েছে তাঁরা ময়দার বদলে আটা, রিফাইন্ড অয়েলের বদলে সরষের তেল কিংবা ঘি ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া একইরকম প্রণালীতে আপনি খাস্তা নিমকি, কামরাঙা কিংবা কাজু নিমকি তৈরি করতে পারেন। মিষ্টি নিমকি করতে হলে ভাজার পর চিনির গাঢ় রসে ফেলতে হবে। চিনির সাদা আস্তরণ পড়লেই তৈরি সুস্বাদু মিষ্টি নিমকি।