
রোজকার ভাত-ডাল খেতে খেতে একঘেয়ে লাগছে? রান্নাঘরে আলু রয়েছে, কিন্তু নতুন কোনও পদ বানানোর কথা মাথায় আসছে না? তা হলে একবার বানিয়ে দেখতে পারেন বিহারের জনপ্রিয় আলু চোখা। উপকরণ খুব বেশি লাগে না। রান্নার ঝামেলাও নেই। সেদ্ধ আলুর সঙ্গে পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, লঙ্কা আর সর্ষের তেলের মিশেলেই তৈরি হয়ে যায় এই দেশি পদ। তবে সেটা মেশানোরও প্রসেস রয়েছে।
আলু চোখা মূলত বিহারের ঘরোয়া রান্নার একটি পরিচিত পদ। ঝটপট তৈরি করা যায় বলে ব্যস্ত দিনের রান্নাতেও এটি বেশ কাজে আসে। সবচেয়ে বড় কথা, এর আসল স্বাদ আসে সর্ষের তেল থেকে। সর্ষের তেলের ঝাঁঝালো গন্ধ আর আলুর নরম মিশ্রণ একসঙ্গে মিশে তৈরি করে দারুণ চটপটা স্বাদ।
গরম ভাত ও ডালের সঙ্গে আলু চোকা খেতে যেমন ভাল লাগে, তেমনই রুটি, খিচুড়ি কিংবা লিট্টির সঙ্গেও পরিবেশন করা যায়। খুব সাধারণ উপকরণে কী ভাবে বাড়িতেই বিহারি স্টাইলে আলু চোকা বানাবেন, জেনে নিন সহজ রেসিপি।
আলু চোখা বানাতে কী কী লাগবে?
এই পদটির জন্য চারটি মাঝারি আকারের আলু, দু’টি পেঁয়াজ, দু’টি কাঁচালঙ্কা, আধ চা-চামচ লঙ্কাগুঁড়ো অথবা দু’টি শুকনো লঙ্কা, এক টেবিল চামচ সর্ষের তেল, স্বাদ অনুযায়ী নুন এবং সামান্য ধনেপাতা লাগবে।
বিহারি আলু চোখা কীভাবে বানাবেন?
প্রথমে আলুগুলি ভাল করে ধুয়ে প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করে নিতে হবে। আলু যাতে ভিতর পর্যন্ত ভাল ভাবে সেদ্ধ হয়, সে দিকে খেয়াল রাখুন। সেদ্ধ হয়ে গেলে আলুগুলি নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। তার পর খোসা ছাড়িয়ে হাত দিয়ে ভাল করে চটকে নিন।
এ বার একটি বড় পাত্রে চটকানো আলু নিয়ে তার মধ্যে কুচিয়ে রাখা পেঁয়াজ এবং কাঁচালঙ্কা দিন। প্রয়োজন মতো নুন দিয়ে সবকিছু ভাল ভাবে মিশিয়ে নিন।
বিহারি আলো চোখায় শুকনো লঙ্কা ব্যবহার করা হয়। গ্যাসের আঁচে শুকনো লঙ্কা সামান্য সেঁকে নিন। লঙ্কা থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলেই নামিয়ে নিন। বেশি পোড়ানোর দরকার নেই। তার পর লঙ্কা হাত দিয়ে গুঁড়ো করে আলুর মধ্যে মিশিয়ে দিন।
এ বার আসল উপকরণ; সর্ষের তেল। আলুর মিশ্রণের মধ্যে এক টেবিল চামচ সর্ষের তেল দিয়ে ভাল করে মেখে নিন। আলুর সঙ্গে পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, শুকনো লঙ্কা এবং সর্ষের তেল যাতে সমান ভাবে মিশে যায়, তা নিশ্চিত করুন।
সব শেষে উপর থেকে সামান্য কুচোনো ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন। ব্যস, আপনার বিহারি স্টাইল আলু চোকা তৈরি।
গরম ভাতের সঙ্গে স্বাদ আরও জমবে
আলু চোকা তৈরি হয়ে গেলে আর আলাদা করে কোনও রান্নার প্রয়োজন নেই। গরম ভাত, ডাল এবং আলু চোকার সঙ্গে দুপুরের খাবার একেবারে জমে যাবে। চাইলে রুটি, খিচুড়ি কিংবা লিট্টির সঙ্গেও পরিবেশন করতে পারেন।
তবে আলু চোকা বানানোর সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা ভাল। আলু যেন খুব ভাল ভাবে সেদ্ধ হয় এবং সেদ্ধ করার পর অতিরিক্ত জল যেন আলুর মধ্যে না থাকে। আলুতে জল বেশি থাকলে চোকা বেশি নরম এবং জলে জলে হয়ে যেতে পারে।
এই পদে সর্ষের তেলই স্বাদের অন্যতম মূল উপকরণ। তাই অন্য কোনও তেলের বদলে সর্ষের তেল ব্যবহার করলে বিহারি আলু চোকার সেই পরিচিত দেশি স্বাদ পাওয়া যায়। আর শুকনো লঙ্কা ব্যবহার করলে সেটি বেশি ক্ষণ ভাজবেন বা পোড়াবেন না। বেশি পুড়ে গেলে লঙ্কায় তেতো স্বাদ চলে আসতে পারে।