
বেগুনের নাম শুনলেই বাড়ির কচিকাঁচা থেকে শুরু করে অনেক বড়রাও নাক সিঁটকোন। যতই যত্ন করে, নানা রকম মশলা দিয়ে রান্না করা হোক না কেন, ঘরের তৈরি বেগুনের তরকারি অনেকের কাছেই পানসে আর একঘেয়ে লাগে। অথচ, হোটেল বা ধাবায় গেলে সেই বেগুনের পদই সকলে চেটেপুটে খান। তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, হোটেলের আর বাড়ির রান্নায় ঠিক কোথায় তফাত? কেন হোটেলের বেগুনের তরকারি এত সুস্বাদু হয়?
আপনি যদি ভাবেন হোটেল বা ধাবার রাঁধুনিরা কোনও বিশেষ বা দামি মশলা ব্যবহার করেন, তবে আপনি ভুল। আসলে, রেস্তরাঁর বেগুনের তরকারির এই জাদুকরী স্বাদের রহস্য মশলায় নয়, লুকিয়ে আছে রান্নার একটি ছোট্ট কৌশলে। অনেক দক্ষ রাঁধুনি বেগুন রান্নার সময় তাতে সামান্য দুধ মেশান। এই সহজ টোটকাতেই তরকারি হয়ে ওঠে আরও ক্রিমি, সুস্বাদু এবং একেবারে হোটেলের মতো ‘রিচ’। একবার এই কৌশলটি প্রয়োগ করলে দেখবেন, বাড়ির একঘেয়ে বেগুনের তরকারিও নতুন রূপে সকলের প্রিয় হয়ে উঠেছে।
কখন এবং কীভাবে দুধ মেশাবেন?
বেগুনের তরকারিতে দুধ দেওয়ার সময় কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমেই বেগুন ও মশলা খুব ভালো করে কষিয়ে নিন। তরকারি যখন প্রায় সেদ্ধ হয়ে আসবে, তখন গ্যাসের আঁচ একেবারে কমিয়ে দিন। এরপর হালকা গরম দুধ অল্প অল্প করে ঢালুন এবং ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। খেয়াল রাখবেন, সরাসরি গরম তরকারিতে যেন ফ্রিজের ঠান্ডা দুধ ঢেলে দেওয়া না হয়। এতে দুধ কেটে যেতে পারে এবং রান্নার স্বাদ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
দুধ দিলে কেন স্বাদ বাড়ে?
বেগুনে স্বাভাবিকভাবেই হালকা তেতো বা কষাটে ভাব থাকে, যে কারণে অনেকেই এর স্বাদ পছন্দ করেন না। কিন্তু তরকারিতে সামান্য দুধ মেশালে এই কষাটে ভাব দূর হয় এবং স্বাদে একটি চমৎকার ভারসাম্য আসে। দুধ বেগুনের তেতো ভাব কমিয়ে দেয়, ফলে পদটির স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়।
পাশাপাশি, দুধ মেশালে বেগুনের গ্রেভি বা ঝোল আরও অনেক বেশি ক্রিমি ও মসৃণ হয়। এতে মশলার স্বাদও বেগুনের সঙ্গে খুব ভাল ভাবে মিশে যাওয়ার সুযোগ পায়।
বজায় থাকে বেগুনের আসল স্বাদ
বেগুনের নিজস্ব একটি সোঁদা গন্ধ ও স্বাদ রয়েছে, যা অনেক সময় অতিরিক্ত মশলা ব্যবহারের ফলে ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু দুধ দিলে বেগুনের সেই প্রাকৃতিক স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে। শুধু তাই নয়, দুধের কারণে বেগুন বেশ নরম হয়ে যায়, ফলে মশলা খুব ভালভাবে শুষে নিতে পারে। মশলা ঠিকঠাকভাবে বেগুনের ভেতরে প্রবেশ করার কারণেই এটি আরও বেশি সুস্বাদু হয়ে ওঠে।
রঙেও আসে জেল্লা
অনেক সময় প্রচুর মশলা দিয়ে রান্না করার পরেও বেগুনের তরকারি দেখতে ফ্যাকাসে বা অনুজ্জ্বল লাগে। কিন্তু গ্রেভিতে সামান্য দুধ মেশালে তরকারির রং অনেক বেশি উজ্জ্বল ও সতেজ দেখায়। এর ফলে পদটি দেখতে একেবারে হোটেলের মতো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
মাথায় রাখুন এই বিশেষ সতর্কতা
আপনি যদি বেগুনের তরকারিতে তেঁতুল বা আমচুর পাউডার (টক জাতীয় কিছু) ব্যবহার করেন, তবে ভুল করেও তাতে দুধ মেশাবেন না। টক জাতীয় উপাদানের সঙ্গে দুধ মিশলে তা কেটে গিয়ে পুরো গ্রেভি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রান্নায় অল্প পরিমাণ টমেটো ব্যবহার করা যেতে পারে ঠিকই, কিন্তু তেঁতুল বা কড়া টকের সঙ্গে দুধের ব্যবহার একেবারেই অনুচিত।