
দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের মধ্যে ধোসা অনেকেরই পছন্দের। কিন্তু বাড়িতে ধোসা বানানোর কথা উঠলেই অনেকের প্রথম চিন্তা হয় চাল ও বিউলির ডাল ভেজানো, ব্যাটার তৈরি করা এবং তার পর সারা রাত ফারমেন্ট করার ঝক্কি। সময়ের অভাবে তাই ইচ্ছে থাকলেও বাড়িতে ধোসা বানানো হয়ে ওঠে না।
তবে ধোসা খেতে হলে সব সময় সেই দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। বাড়িতে থাকা ছোলার ডাল এবং সুজি দিয়েই খুব সহজে তৈরি করা যায় মুচমুচে ধোসা। এই Chana Dal Dosa Recipe-তে চালের প্রয়োজন নেই। ফলে চেনা ধোসার স্বাদে একটু নতুনত্বও আসবে। ছোলার ডালে প্রোটিন ও ফাইবার রয়েছে, যা পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। প্রাতরাশ কিংবা হালকা খাবার হিসেবে তাই এই ধোসা বেশ ভাল বিকল্প হতে পারে।
ছোলার ডালের ধোসা বানাতে কী কী লাগবে?
এক কাপ ছোলার ডাল, আধ কাপ সুজি, এক-চতুর্থাংশ কাপ টক দই, এক ইঞ্চি আদা, দু’টি কাঁচা লঙ্কা, নুন এবং প্রয়োজনমতো জল লাগবে। ধোসার ভিতরে দেওয়ার জন্য তিনটি সেদ্ধ আলু, একটি পেঁয়াজ, আধ চা-চামচ সর্ষে ও জিরে, কয়েকটি কারিপাতা, সামান্য হলুদ ও লঙ্কাগুঁড়ো, এক চামচ তেল এবং কুচোনো ধনেপাতা নিন।
ছোলার ডালের ধোসা কীভাবে তৈরি করবেন?
প্রথমে ছোলার ডাল ভাল করে ধুয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন। ভেজানো হয়ে গেলে জল ঝরিয়ে নিন। এ বার মিক্সিতে ছোলার ডাল, আদা, কাঁচা লঙ্কা এবং দই দিয়ে দিন। সামান্য জল দিয়ে সব উপকরণ মিহি করে বেটে নিন। খেয়াল রাখবেন, ব্যাটারে যেন ডালের দানা থেকে না যায়।
বেটে নেওয়া ডালের মিশ্রণ একটি বড় পাত্রে ঢেলে তাতে সুজি এবং স্বাদ অনুযায়ী নুন মেশান। প্রয়োজনমতো জল দিয়ে ধোসার ব্যাটারের মতো মিশ্রণ তৈরি করুন। ব্যাটার খুব ঘন বা খুব পাতলা হবে না। এ বার পাত্রটি ঢেকে প্রায় ১০ মিনিট রেখে দিন। এতে সুজি কিছুটা ফুলে উঠবে।
এ বার ধোসার ভিতরের পুর তৈরি করে নিন। কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করে সর্ষে, জিরে ও কারিপাতা দিন। ফোড়ন পড়লে কুচোনো পেঁয়াজ দিয়ে হালকা নরম হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। তার পর হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো, নুন এবং সেদ্ধ করে চটকে রাখা আলু দিয়ে ভাল করে মেশান। দুই-তিন মিনিট নাড়াচাড়া করার পর ধনেপাতা ছড়িয়ে আঁচ বন্ধ করে দিন।
এ বার একটি নন-স্টিক বা লোহার তাওয়া মাঝারি আঁচে গরম করুন। তাওয়া গরম হলে সামান্য জল ছিটিয়ে কাপড় দিয়ে মুছে নিন। আঁচ কমিয়ে তাওয়ার মাঝখানে এক থেকে দুই হাতা ধোসার ব্যাটার ঢেলে গোল করে পাতলা করে ছড়িয়ে দিন।
ধোসার চারপাশে এবং মাঝখানে সামান্য তেল বা ঘি দিন। এ বার আঁচ একটু বাড়িয়ে দিন। নীচের দিকটা সোনালি এবং মুচমুচে হওয়া পর্যন্ত ধোসা সেঁকতে থাকুন। ধোসার ধার তাওয়া থেকে আলগা হয়ে এলে মাঝখানে আলুর পুর দিয়ে ধোসাটি ভাঁজ করে নিন।
তৈরি হয়ে গেল গরম গরম ছোলার ডাল ও সুজির ধোসা। নারকেলের চাটনি, বাদামের চাটনি কিংবা সাম্বারের সঙ্গে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও বাড়বে।