
যখন আমরা কোনও বড় রেস্তরাঁ বা বুফেতে খেতে যাই, তখন আমাদের মনে একটি প্রশ্ন জাগে- যদি সব খাবার পুরোপুরি শেষ না হয়, তবে এই বেঁচে যাওয়া খাবারগুলোর শেষ গন্তব্য কী? হোটেল কি এগুলো পরের দিন পরিবেশন করবে, নাকি ফেলে দেবে? এই প্রশ্নগুলো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি, শেফ সঞ্জীব কাপুর একটি পডকাস্টে আলোচনা করেছেন যে, বড় হোটেলগুলো তাদের বেঁচে যাওয়া খাবার দিয়ে আসলে কী করে।
পরের দিন কি বাসি খাবার পরিবেশন করা হয়?
একটি সাক্ষাৎকারে সঞ্জীব কাপুর বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন যে, মানুষের মনে প্রায়ই একটি ভুল ধারণা কাজ করে—তারা মনে করেন বুফেতে বেঁচে যাওয়া খাবারগুলোই পরের দিন গ্রাহকদের পরিবেশন করা হয়। তিনি বলেন, "হোটেলগুলো ঠিক সেই কাজটিই করে যা আমরা আমাদের নিজেদের বাড়িতে করে থাকি: খাবারের 'পুনর্ব্যবহার'। এর অর্থ হল, যদি কোনও খাবার বা পদ খাওয়ার জন্য নিরাপদ থাকে, তবে সেটির গুণগত মানের সঙ্গে কোনও আপস না করেই সেটিকে নতুন কোনও উপায়ে পুনরায় ব্যবহার করা যেতে পারে।"
হোটেলের খাবারের অপচয় কীভাবে রোধ করা হয়?
সঞ্জীব কাপুর ব্যাখ্যা করেন, "বড় হোটেলগুলোতে রান্নার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট হিসাব-নিকাশ কাজ করে। সেখানকার শেফ এবং কর্মীরা অত্যন্ত সুপ্রশিক্ষিত; তারা খুব ভাল করেই জানেন যে, নির্দিষ্ট সংখ্যক অতিথির জন্য ঠিক কতটুকু খাবার রান্না করা প্রয়োজন। তাই, তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার রান্না করা থেকে বিরত থাকেন, যার ফলে খাবারের অতিরিক্ত অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়। খাবারের অপচয় রোধ করার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন তথ্যের সহায়তা নেওয়া হয়, যাতে খাবারের অপচয় ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়।"
যদি খাবার বেঁচে যায়, তখন কী করা হয়?
সঞ্জীব কাপুর জানান যে, যেসব খাবার সত্যিই নষ্ট হয়ে গেছে কিংবা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছে, হোটেলগুলো সেগুলো অবশ্যই ফেলে দেয়। প্রতিটি হোটেলেরই নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা 'ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট' ব্যবস্থা থাকে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক হোটেলই তাদের বেঁচে যাওয়া এবং খাওয়ার উপযোগী খাবারগুলো দুস্থ ও অভাবী মানুষদের মাঝে কিংবা বিভিন্ন ফুড ব্যাঙ্কে বিতরণ করে।