
ক্রমেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। মাছ, মাংস বা অন্যান্য প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের দাম অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে ডিম এবং আলুই মধ্যবিত্ত রান্নাঘরের ভরসা হয়ে উঠেছে। কলকাতা এবং শহরতলির বহু পরিবারের গৃহিণীরা জানাচ্ছেন, মাসের শেষে বাজেট সামলাতে ডিম-আলুই সবচেয়ে বেশি ভরসার। কম খরচে পরিবারের সকলের জন্য সুস্বাদু খাবার তৈরি করা সম্ভব।
ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে আলু শরীরে শক্তি জোগায়। ফলে এই দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।
রান্না করাও খুব সহজ। প্রথমে ডিম সেদ্ধ করে নিতে হয়। তারপর আলু কেটে ভেজে নিতে হয়। এরপর পেঁয়াজ, আদা, রসুন এবং মশলা দিয়ে কষিয়ে ডিম দিয়ে কয়েক মিনিট রান্না করলেই তৈরি হয়ে যায় সুস্বাদু ডিম-আলুর তরকারি।
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম সস্তা হলেও এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। নিয়মিত ডিম খেলে শরীরের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়।
আসুন এক নজরে পুরো রেসিপিটি জেনে নেওয়া যাক।
উপকরণ (৪ জনের জন্য)
ডিম : ৪টি
আলু : ২টি (মাঝারি, অর্ধেক করে কাটা)
পেঁয়াজ : ১টি (কুচি)
টমেটো : ১টি (কুচি)
আদা বাটা : ১ চা চামচ
রসুন বাটা : ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো : ১ চা চামচ
লঙ্কা গুঁড়ো : ১ চা চামচ
জিরে গুঁড়ো : ১ চা চামচ
গরম মশলা : আধা চা চামচ
তেজপাতা : ১টি
শুকনো লঙ্কা : ১টি
নুন : স্বাদমতো
সর্ষের তেল : ৩ টেবিল চামচ
জল : প্রয়োজনমতো
ধনেপাতা : সামান্য (সাজানোর জন্য)
রান্নার পদ্ধতি
ডিম সেদ্ধ ও ভাজা
প্রথমে ডিম সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিন।
তারপর ডিমে সামান্য নুন ও হলুদ মাখিয়ে সর্ষের তেলে হালকা করে ভেজে নিন। এতে ডিমের স্বাদ বাড়ে। ভাজা হয়ে গেলে তুলে রাখুন।
আলু ভাজা
একই তেলে আলুগুলো হালকা লাল করে ভেজে তুলে রাখুন।
মশলা ফোড়ন
কড়াইতে তেল গরম করে তেজপাতা ও শুকনো লঙ্কা দিন।
তারপর পেঁয়াজ দিয়ে সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
এবার আদা-রসুন বাটা দিয়ে ১ মিনিট নাড়ুন।
মশলা কষানো
এবার টমেটো, হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো ও নুন দিয়ে ভাল করে কষান।
মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে বুঝবেন কষা হয়ে গেছে।
আলু ও ডিম দেওয়া
এবার ভাজা আলু ও ডিম দিয়ে মশলার সঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে নিন।
তারপর প্রয়োজনমতো জল দিন।
ফোটানো
ঢেকে ৮:১০ মিনিট রান্না করুন।
শেষে গরম মশলা ও ধনেপাতা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
লুচি বা রুটির সঙ্গেও এই ডিম আলুর তরকারি খুব ভাল লাগে।