
বাঙালির সকাল শুরু হয় চা দিয়ে, আবার সন্ধ্যার আড্ডাও চা ছাড়া চলে না। চা খালি পানীয় নয়, বরং আবেগ! চায়ের ঠেকেই রাজনীতি থেকে দেশবিদেশের হাল নিয়ে ওঠে তুফান। কিন্তু বাড়িতে চা তৈরি করেন, এমন অনেকেরই একটাই আক্ষেপ, বাড়ির চা কিছুতেই দোকানের মতো কড়া হয় না। চিন্তার কারণ নেই। আজ শিখে নিন মশলা চায়ের রেসিপি।
মশলা চা পছন্দ করেন, কিন্তু প্রতি বার আদা, এলাচ, দারচিনি-সহ একাধিক মশলা আলাদা করে দেওয়ার ঝক্কি পোহাতে ভাল লাগে না? তা হলে সহজ উপায় হল বাড়িতেই চায়ের মশলা বানিয়ে রাখা। টাইট কৌটোয় এই মশলা সংরক্ষণ করে রাখলেই হবে। এতে এমন কিছু মশলা ব্যবহার করা হয়, যা চাকে অমৃত করে তোলে। এক বার মশলা তৈরি করে নিলে আর কোনও ঝামেলা নেই।
বাড়িতে চায়ের মশলা বানাতে কী কী লাগে
শুকনো আদা: ২ টেবিল চামচ
মৌরি: ২ টেবিল চামচ
গোলমরিচ: ১ টেবিল চামচ
বড় এলাচ: ৩টি
ছোট এলাচ: ১০-১২টি
দারচিনি: ৩-৪ টুকরো
লবঙ্গ: ১ চা চামচ
জায়ফল: আধ চা চামচ
শুকনো তুলসী পাতা: ১ টেবিল চামচ
চায়ের মশলা তৈরির পদ্ধতি
চায়ের মশলা তৈরির জন্য প্রথমে সব উপাদানগুলি হালকা করে ভেজে নিতে হবে। একটি কড়াই কম আঁচে বসিয়ে তাতে মৌরি, গোলমরিচ, বড় এলাচ, ছোট এলাচ, দারচিনি এবং লবঙ্গ দিয়ে দিন। ২-৩ মিনিট কম আঁচে হালকা গরম করুন। বেশি আঁচে ভাজার প্রয়োজন নেই। মশলা থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলেই গ্যাস বন্ধ করে দিন।
এবার একটি প্লেটে ছড়িয়ে দিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এই ধাপটি এড়িয়ে সঙ্গে সঙ্গে মশলা গুঁড়ো করার ভুল করবেন না। ঠান্ডা হয়ে গেলে শুকনো আদা, জায়ফল এবং শুকনো তুলসী পাতার সঙ্গে মিক্সারে দিয়ে দিন। সব উপকরণ একসঙ্গে গুঁড়ো করে নিন। মশলাগুলি একেবারে মিহি করে গুঁড়ো করার প্রয়োজন নেই।
চায়ের মশলা তৈরি হয়ে গেলে পরিষ্কার এবং সম্পূর্ণ শুকনো কৌটোর মধ্যে ভরে রাখুন। কৌটোর ভিতরে কোনওভাবেই আর্দ্রতা ঢুকতে দেওয়া যাবে না। না হলে মশলা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই টাইট ঢাকনার কৌটো বাছুন।
এক কাপ চায়ে কতটা মশলা দেবেন?
প্রতি কাপের জন্য আধ চা চামচ চায়ের মশলা দিতে পারেন। চায়ে মশলার স্বাদ বেশি পছন্দ হলে নিজের স্বাদ অনুযায়ী পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়েও নিতে পারেন। মশলা দেওয়ার পর চা ভাল করে ফুটতে দিন। তাতে মশলার সুগন্ধ এবং স্বাদ দুধ-চায়ের সঙ্গে ভাল ভাবে মিশে যাবে।
রোজকার সেই একই চা, কিন্তু স্বাদ এবং গন্ধে থাকবে একেবারে নতুনত্ব। বিশেষ করে যাঁরা মশলা চা পছন্দ করেন, কিন্তু প্রতি কাপ চায়ে আলাদা আলাদা মশলা দেওয়ার সময় পান না, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি বেশ কাজের।