
লুচি বা পুরি খেতে কে না ভালোবাসে! ছুটির দিনের জলখাবার হোক বা উৎসবের দিন— বাড়িতে পুরি ভাজা হয় আকছারই। কিন্তু অনেকেরই একটা সাধারণ অভিযোগ থাকে। কড়াইতে দেওয়ার পর পুরিগুলো বেশ বলের মতো ফুলে উঠলেও, কড়াই থেকে তুলে প্লেটে রাখতে না রাখতেই একেবারে নরম হয়ে চুপসে যায়। অথচ, মিষ্টির দোকান, বিয়েবাড়ি বা পুজোর ভোগে দেওয়া পুরিগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দিব্যি ফুলকো আর খাস্তা থাকে।
এর পিছনের রহস্যটা কী? ময়রারা কি কোনও দামি জাদুকরী উপকরণ ব্যবহার করেন? একেবারেই নয়! এর পিছনে রয়েছে খুব সাধারণ কয়েকটি কৌশল। জেনে নিন সেসব টোটকা, যা মানলে আপনার হাতের পুরিও হবে একেবারে দোকানের মতো নিখুঁত।
দোকানের মতো খাস্তা পুরি বানানোর সহজ কৌশল
১. আটা বা ময়দা মাখার ধরন
নিখুঁত পুরি বানানোর প্রথম এবং প্রধান শর্ত হল আটা মাখার কায়দা। পুরির জন্য আটা বা ময়দা সবসময় একটু শক্ত করে মাখতে হয়। ডো যদি খুব বেশি নরম হয়ে যায়, তবে পুরি ভাজার সময় প্রচুর তেল টানে আর খুব তাড়াতাড়ি চুপসেও যায়।
গোপন টোটকা: আটা মাখার সময় এর সঙ্গে ১ থেকে ২ চামচ সুজি মিশিয়ে নিন। এতে পুরি যেমন খাস্তা হয়, তেমনই দীর্ঘক্ষণ ফুলকো থাকে।
আটা মেখে অনেকক্ষণ ফেলে রাখবেন না। মাখার পর ১৫-২০ মিনিট ঢেকে রেখে তারপরই লেচি কেটে বেলে নেওয়া ভালো।
২. সঠিক পুরুত্ব বজায় রাখা
ভাজার পর পুরি ফুলকো থাকবে নাকি চুপসে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে পুরি কতটা পুরু করে বেলা হয়েছে তার ওপর। দোকানের মতো পুরি পেতে হলে খেয়াল রাখবেন, তা যেন খুব বেশি মোটাও না হয়, আবার একেবারে পাতলাও না হয়ে যায়।
খুব পাতলা করে বেললে পুরি তেলের মধ্যে ফেটে যেতে পারে এবং ঠিকমতো ফোলে না।
আবার খুব মোটা করে বেললে ওপরটা লাল হয়ে গেলেও ভিতরটা কাঁচা থেকে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই চেষ্টা করুন প্রতিটি পুরি যেন সমান আকারের এবং একই পুরুত্বের হয়।
৩. তেলের তাপমাত্রাও ভীষণ জরুরি
তেলের আঁচ ঠিক না থাকলে পুরি কখনওই ভালো ফুলবে না। তেল কম গরম হলে পুরি স্পঞ্জের মতো তেল শুষে নেবে। আবার অতিরিক্ত গরম হলে খাস্তা হওয়ার বদলে নিমেষেই পুড়ে যেতে পারে। তাই কড়াইতে পুরি ছাড়ার আগে খেয়াল রাখুন, তেল যেন খুব ঠান্ডাও না থাকে, আবার ধোঁয়া-ওঠা গরমও না হয়। সঠিক উপায় হল, তেলে একটু লেচি ফেলে দেখুন, যদি সেটা সঙ্গে সঙ্গে উপরে ভেসে ওঠে ও ফুলতে শুরু করে, তবে বুঝবেন তেল একদম তৈরি।
৪. ভাজার সঠিক কায়দা
পুরি ভাজারও নির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে। তেলে পুরি ছাড়ার পর হাতার পিছন দিক বা ছাঁনতা দিয়ে আলতো করে একটু চেপে দিন। এতে গরম তেল পুরির উপরের অংশেও ভালোভাবে পৌঁছয় এবং পুরি চমৎকার ফুলে ওঠে। একবার বলের মতো ফুলে উঠলে সাবধানে উল্টে দিয়ে দু’পিঠ সোনালি আর মুচমুচে করে ভেজে তুলে নিন।
ময়রাদের সেই আসল ‘গোপন’ রহস্য: পেশাদার কারিগররা ময়দা মাখার সময় তাতে সামান্য গরম তেল (ময়ান) এবং অল্প একটু সুজি অবশ্যই মেশান। এই সামান্য কারিকুরিতেই পুরি হয় দারুণ খাস্তা এবং দীর্ঘক্ষণ থাকে একেবারে ফুলকো!
এবার থেকে বাড়িতে পুরি বানানোর সময় এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চলুন, আর ম্যাজিক দেখুন নিজের রান্নাঘরেই!